নেত্রকোনা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় আল-নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু

ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নেত্রকোনা জেলা শহরের মাতৃ সদনের সামনে অবস্থিত আল-নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার রাতে সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মারা যাওয়া প্রসূতি রোজিনা আক্তার (২৩) নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আশিক মিয়ার স্ত্রী।

রোজিনার স্বামী আশিক, বাবা চান্দু মিয়া, ভাসুর ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, দালালের মাধ্যমে তারা আল নূর ডায়গনষ্টিক সেন্টারে রোজিনাকে রবিবার বিকালে নিয়ে আসেন। সেন্টারের ম্যানেজারের প্রলোভনে তারা ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে সেখানে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। সেন্টারের ম্যানেজার জেলা শহরের কুরপাড় নিবাসী ডাঃ জীবন কৃষ্ণ সরকারকে ডেকে সন্ধ্যা ৭টায় তাড়াহুড়ো করে রোজিনার সিজার করান।

তাদের অভিযোগ, সিজারের আগে ডাক্তার বা ডায়গনষ্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অবহিত করেনি রোগীর রক্ত লাগবে। সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্ম হওয়ার পর অধিক রক্তক্ষরণের ফলে প্রসূতির মায়ের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে ডাক্তার জীবন কৃষ্ণ সরকার রোগীর স্বজনদের কাছে রক্ত লাগবে জানিয়ে দ্রæততার সাথে ডায়গনষ্টিক সেন্টার ত্যাগ করেন! ততক্ষণে প্রসূতি মা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যান। পরে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের নির্দেশে প্রসূতি মাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাঃ টিটু রায় রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে ডাঃ টিটু রায় সাংবাদিকদেরকে জানান, রোজিনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ তাজুল ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঐ ডায়গনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থানেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ডাঃ জীবন কৃষ্ণ সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘ডায়গনষ্টিক সেন্টারটি অনুমোদিত কিনা তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। সিজারের আগে রক্তের ক্রস মিসিং ও ডোনার সংগ্রহ করাও আমার দায়িত্ব নয়। আমি ডাক পেলেই নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ গিয়ে বিভিন্ন সেন্টারে সিজার করি। রোগীর তো মৃত্যু হতেই পারে, গ্যারান্টি দিয়ে তো আর সিজার করা সম্ভব নয়’।
মৃত প্রসূতির পরিবারের দাবি ডাক্তার ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই রোজিনার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত ডাক্তার ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায় বিচার প্রার্থণা করে রবিবার রাতে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে ডাক্তার জীবন কৃষ্ণ সরকার ও আল নূর ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিকদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পাওয়ার পরই পুলিশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রসূতি মায়ের মরদেহ দেখার পাশাপাশি স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

নেত্রকোনায় আল-নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু

আপডেট : ০৪:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২০

ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নেত্রকোনা জেলা শহরের মাতৃ সদনের সামনে অবস্থিত আল-নূর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার রাতে সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্ম দেয়ার পর মারা যাওয়া প্রসূতি রোজিনা আক্তার (২৩) নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষক আশিক মিয়ার স্ত্রী।

রোজিনার স্বামী আশিক, বাবা চান্দু মিয়া, ভাসুর ফজলুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, দালালের মাধ্যমে তারা আল নূর ডায়গনষ্টিক সেন্টারে রোজিনাকে রবিবার বিকালে নিয়ে আসেন। সেন্টারের ম্যানেজারের প্রলোভনে তারা ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে সেখানে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। সেন্টারের ম্যানেজার জেলা শহরের কুরপাড় নিবাসী ডাঃ জীবন কৃষ্ণ সরকারকে ডেকে সন্ধ্যা ৭টায় তাড়াহুড়ো করে রোজিনার সিজার করান।

তাদের অভিযোগ, সিজারের আগে ডাক্তার বা ডায়গনষ্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অবহিত করেনি রোগীর রক্ত লাগবে। সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্ম হওয়ার পর অধিক রক্তক্ষরণের ফলে প্রসূতির মায়ের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন দেখে ডাক্তার জীবন কৃষ্ণ সরকার রোগীর স্বজনদের কাছে রক্ত লাগবে জানিয়ে দ্রæততার সাথে ডায়গনষ্টিক সেন্টার ত্যাগ করেন! ততক্ষণে প্রসূতি মা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে যান। পরে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের ম্যানেজারের নির্দেশে প্রসূতি মাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাঃ টিটু রায় রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে ডাঃ টিটু রায় সাংবাদিকদেরকে জানান, রোজিনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ তাজুল ইসলাম খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঐ ডায়গনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থানেয়া হবে।

এ ব্যাপারে ডাঃ জীবন কৃষ্ণ সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘ডায়গনষ্টিক সেন্টারটি অনুমোদিত কিনা তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। সিজারের আগে রক্তের ক্রস মিসিং ও ডোনার সংগ্রহ করাও আমার দায়িত্ব নয়। আমি ডাক পেলেই নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ গিয়ে বিভিন্ন সেন্টারে সিজার করি। রোগীর তো মৃত্যু হতেই পারে, গ্যারান্টি দিয়ে তো আর সিজার করা সম্ভব নয়’।
মৃত প্রসূতির পরিবারের দাবি ডাক্তার ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই রোজিনার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত ডাক্তার ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায় বিচার প্রার্থণা করে রবিবার রাতে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে ডাক্তার জীবন কৃষ্ণ সরকার ও আল নূর ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিকদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পাওয়ার পরই পুলিশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রসূতি মায়ের মরদেহ দেখার পাশাপাশি স্বজনদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।