নেত্রকোনা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনার যাত্রীদের ঈদযাত্রায় ছিলো অসহনীয় ভোগান্তি

জেলা প্রশাসনের দফায় দফায় সভার পরেও এবার ঈদ যাত্রায় বাড়ি এসে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ থেকে পাল্লা দিয়ে সকল ধরনের যানবাহনে আদায় করেছে বাড়তি ভাড়া। ঢাকার গেইটলক সার্ভিস শাহজালাল রেখেছে ২৫০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা। ময়মনসিংহ গেইটলক নামক সার্ভিস থেকে ৫৫ টাকার পরিবর্তে ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত টাকা আদায় করেছে বাস কর্তৃপক্ষ। এদিকে প্রতিটি সিএনজি ময়মনসিংহ থেকে নিচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। যা অন্যান্য বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছে। ইজি বাইকেও এই অবস্থা।

জানা গেছে, ঈদ পূর্ব আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্ততি সভায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামের সভাপতিত্বে সকল শ্রেণি পেশার এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক মালিক নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্‌সী নৈরাজ্য সৃষ্টি যাতে কেউ না করে সেদিকে সকলের প্রতি অহ্‌বান রাখেন। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতা আদব আলী সকলের সামনে প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু ঈদ যাত্রায় পুরোটাই ভেস্তে চলে যায় নৈরাজ্যের কারণে।

ঢাকা থেকে আগত শাহজালাল পরিবহনের যাত্রী খোকন, জুয়েল সহ বেশ কজন জানান, তাদের থেকে ৫০০ টাকা করে রেখেছে। এদিকে ময়মনসিংহ থেকে ৩০০-৪০০ টাকা করে রাখছে সিএনজিগুলো। এনিয়ে অনেকের সাথে তর্কাতর্কিতেও জড়াচ্ছে সিএনজি চালকরা। আটপাড়া উপজেলার মনিরুজ্জামান বাবুল ফেইসবুকে ছবিসহ আপলোড দেন ইজিবাইক নিয়ে যাওয়ার পথে তেলিগাতি এলাকায় ১০ টাকা লিখা কোপনে শ্রমিক সংগঠনের নামে ২০ টাকা করে মোড়ে মোড়ে যত্রতত্র আদায় করছে। 

নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল ও সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান সহ বেশ কয়েকজন ভূক্তভোগী এ নিয়ে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও দিয়েছেন। কিন্তু এসবের পরেও থামছে না সিএনজি চালকদের দৌড়াত্ম। 

বিশস্থ আরেকটি গোপন সূত্রে জানা যায়, সিএনজির এই বাড়তি ভাড়া থেকে মালিক সমিতি নিচ্ছে ১০০ টাকা, পুলিশ নিচ্ছে ১০০ টাকা, চালক নিচ্ছে ৭০ টাকা বাকী টাকা সিএনজির মালিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে কুপনের মাধ্যমে নেতারা নিচ্ছে। সিএনজির এই অরাজকতা শুধুমাত্র ঈদ কেন্দ্রিকই নয় বিশেষ দিনগুলোতে সুযোগ বুঝেই তারা বছর ভর এমনটি করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। 

এ ব্যাপারে জেলা অটো টেম্পু ও সিএনজি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ময়মনসিংহের ব্যাপারটা আমরা জানা নাই। এইটা ওখানকার ব্যাপার। তবে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ ১২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক আমি বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় রয়েছি। কিন্তু যাত্রী খন্দকার তুহিন জানান তারা যাত্রী উঠাবেনা, উঠালে তাদেরও নির্ধারিত ভাড়াই দিতে হবে। 

নেত্রকোনা জেলা মোটরযান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক আদব আলী দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ে জানান, নেত্রকোনা-ঢাকা শাহজালাল পরিবহনে ৩০০ টাকা করে নিচ্ছি এটা সত্য। কিন্তু ঢাকারটা আমরা জানিনা। কোন দালালদের খপ্পরে পড়তে পারে হয়তো যাত্রীরা। এছাড়া সিএনজির ব্যাপারগুলো আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা যেখানেই সমস্যার খবর পাচ্ছি সেখানেই মোটর সাইকেলে ছুটে যাচ্ছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

নেত্রকোনার যাত্রীদের ঈদযাত্রায় ছিলো অসহনীয় ভোগান্তি

আপডেট : ০৬:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অগাস্ট ২০১৯

জেলা প্রশাসনের দফায় দফায় সভার পরেও এবার ঈদ যাত্রায় বাড়ি এসে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-ময়মনসিংহ থেকে পাল্লা দিয়ে সকল ধরনের যানবাহনে আদায় করেছে বাড়তি ভাড়া। ঢাকার গেইটলক সার্ভিস শাহজালাল রেখেছে ২৫০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা। ময়মনসিংহ গেইটলক নামক সার্ভিস থেকে ৫৫ টাকার পরিবর্তে ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত টাকা আদায় করেছে বাস কর্তৃপক্ষ। এদিকে প্রতিটি সিএনজি ময়মনসিংহ থেকে নিচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। যা অন্যান্য বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে দিয়েছে। ইজি বাইকেও এই অবস্থা।

জানা গেছে, ঈদ পূর্ব আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্ততি সভায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলামের সভাপতিত্বে সকল শ্রেণি পেশার এবং সড়ক পরিবহন শ্রমিক মালিক নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্‌সী নৈরাজ্য সৃষ্টি যাতে কেউ না করে সেদিকে সকলের প্রতি অহ্‌বান রাখেন। সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতা আদব আলী সকলের সামনে প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু ঈদ যাত্রায় পুরোটাই ভেস্তে চলে যায় নৈরাজ্যের কারণে।

ঢাকা থেকে আগত শাহজালাল পরিবহনের যাত্রী খোকন, জুয়েল সহ বেশ কজন জানান, তাদের থেকে ৫০০ টাকা করে রেখেছে। এদিকে ময়মনসিংহ থেকে ৩০০-৪০০ টাকা করে রাখছে সিএনজিগুলো। এনিয়ে অনেকের সাথে তর্কাতর্কিতেও জড়াচ্ছে সিএনজি চালকরা। আটপাড়া উপজেলার মনিরুজ্জামান বাবুল ফেইসবুকে ছবিসহ আপলোড দেন ইজিবাইক নিয়ে যাওয়ার পথে তেলিগাতি এলাকায় ১০ টাকা লিখা কোপনে শ্রমিক সংগঠনের নামে ২০ টাকা করে মোড়ে মোড়ে যত্রতত্র আদায় করছে। 

নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল ও সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান সহ বেশ কয়েকজন ভূক্তভোগী এ নিয়ে কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টও দিয়েছেন। কিন্তু এসবের পরেও থামছে না সিএনজি চালকদের দৌড়াত্ম। 

বিশস্থ আরেকটি গোপন সূত্রে জানা যায়, সিএনজির এই বাড়তি ভাড়া থেকে মালিক সমিতি নিচ্ছে ১০০ টাকা, পুলিশ নিচ্ছে ১০০ টাকা, চালক নিচ্ছে ৭০ টাকা বাকী টাকা সিএনজির মালিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে কুপনের মাধ্যমে নেতারা নিচ্ছে। সিএনজির এই অরাজকতা শুধুমাত্র ঈদ কেন্দ্রিকই নয় বিশেষ দিনগুলোতে সুযোগ বুঝেই তারা বছর ভর এমনটি করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। 

এ ব্যাপারে জেলা অটো টেম্পু ও সিএনজি চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন ময়মনসিংহের ব্যাপারটা আমরা জানা নাই। এইটা ওখানকার ব্যাপার। তবে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ ১২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক আমি বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় রয়েছি। কিন্তু যাত্রী খন্দকার তুহিন জানান তারা যাত্রী উঠাবেনা, উঠালে তাদেরও নির্ধারিত ভাড়াই দিতে হবে। 

নেত্রকোনা জেলা মোটরযান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক আদব আলী দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ে জানান, নেত্রকোনা-ঢাকা শাহজালাল পরিবহনে ৩০০ টাকা করে নিচ্ছি এটা সত্য। কিন্তু ঢাকারটা আমরা জানিনা। কোন দালালদের খপ্পরে পড়তে পারে হয়তো যাত্রীরা। এছাড়া সিএনজির ব্যাপারগুলো আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা যেখানেই সমস্যার খবর পাচ্ছি সেখানেই মোটর সাইকেলে ছুটে যাচ্ছি।