শুক্রবার ২৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নানা কৌশলে ঢুকছে মাদক

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক;  |  আপডেট ২:২৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০ | প্রিন্ট  | 89

নানা কৌশলে ঢুকছে মাদক

মাদকবিরোধী অভিযানেও রাজধানীতে থেমে নেই মাদক ব্যবসা। অভিযানে কারবারিরা আতঙ্কে থাকলেও বন্ধ করা যাচ্ছে না তাদের এই অবৈধ ব্যবসা। তারা এখন নিত্য নতুন অভিনব কায়দায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে এনে মাদক ঢুকছে রাজধানীতে। ঢাকার অর্ধশতাধিক স্থানে দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর হাতে পৌঁছে দিতেই তারা এই নিত্য নতুন কায়দা ব্যবহার করছে। মাঝে মধ্যে কিছু চালান ধরা পরলেও অধিকাংশ মাদক চালান পৌঁছে যায় এসব ব্যবসায়ীদের হাতে। অভিনব কৌশলে এমন মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তৎপর হয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।

এদিকে প্রতিদিন র‌্যাব ও পুলিশ, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের, কোস্টগার্ড, র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়ছে ইয়াবার বড় বড় চালান।


৮ অক্টোবর বিকেল রাজধানীর রমনা এলাকার হলিফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে পিকআপ ভ্যানের নিচের চেম্বারে বিশেষ কায়দায় রেখে ফেনসিডিল পাচারের সময় ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিকআপ ভ্যানিটিকে আটক করা হয়। পিকআপ ভ্যানটি ওপর দিকে অর্থাৎ যেখানে মালামাল রাখা হয় সেই জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি ছিল। প্রথম দিকে আমরা খোঁজ করে ভ্যানটিতে কিছুই পাইনি। পরে গাড়ির চালক ও লাইন ম্যানকে জেরা করলে তারা গোপন চেম্বারের কথা জানায়। ওই গোপন চেম্বারের ১ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা যশোর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল কিনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছে।

৫ অক্টোবর বিকালে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার গণপূর্ত স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে একটি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ফেনসিডিল উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। দেখতে অবিকল মরদেহ। অবাক করা হলেও সত্যি, লাশবাহী ওই গাড়িতে ছিলো কোন মৃতদেহ। ছিলো শুধু ৩ হাজার বোতল ফেনসিডিল। ওই মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে জানায়, কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর ফেনসিডিলগুলো সুযোগ বুঝে তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করেন।

গত ২৮ মে বিকেলে র‌্যাব-২ এর একটি দল ঢাকার আশুলিয়ায় কুরিয়ার সার্ভিসের একটি গাড়িতে শিশুখাদ্যের মধ্যে থাকা দেড় কেজির বেশি হেরোইন জব্দ করে। পিকআপে থাকা দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের একজন নারী।

গত ২১ মে রাতে রাজধানীর আদাবর রিং রোডের মোড়ে নিরাপত্তা চৌকিতে র‌্যাব-২ কাঁঠাল ও ডাবভর্তি পিকআপ আটক করে। পিকআপটিতে ‘জরুরি প্রাণীখাদ্য উৎপাদন কাজে নিয়োজিত’ স্টিকার সাঁটা ছিল। চালক, চালকের সহকারী ও দুই যাত্রীর প্রত্যেকের কাছে সাত হাজার করে ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। যাত্রী দুজনের পিঠের ব্যাগে একটি করে বন্দুক ও ছয়টি গুলি ছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে টেকনাফ ও উখিয়ায় যে ইয়াবা আসে, সেটা ভাগে ভাগে কাঠের ট্রাকে করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। সাতকানিয়া থেকেই বদল হয় মাদক ছড়িয়ে দেয়ার রুট। কিছু চালান সড়কপথে চট্টগ্রাম থেকে কার্গোবাহী বড় লরি, কাভার্ড ভ্যান ও প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় ঢুকে। সাধারণত লরি বা কাভার্ড ভ্যান খুব বেশি তল্লাশি হয় না বললেই চলে। এই সুবিধাই নেয় চোরাকারবারি চক্র। এরমধ্যে কিছু চালান নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে ঢুকে খিলক্ষেত ও আব্দুল্লাহপুর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায়। কিছু চালান ঢুকে ইজতেমা মাঠের বিপরীত পাশের রাস্তা দিয়ে উত্তরা ১৫ ও ১৭ নম্বর সেক্টর হয়ে মিরপুরে। আর কিছু চালান ঢুকে যাত্রাবাড়ী হয়েও। খিলক্ষেত-আব্দুল্লাহ এলাকা বা মিরপুরে যেসব চালান ঢুকে সেসব মাদক ওই এলাকায়ই বণ্টন শেষ হয় যায়। যে চালান যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢুকে তার প্রথম হাতবদল হয় দৈনিক বাংলা মোড়ের আবাসিক হোটেলগুলোতে। এরপর ধীরে ধীরে ছোট চালান হিসেবে ছড়িয়ে দেয়া হয় রাজধানীতে।

আবার ঢাকায় ঢোকার আগে কিছু চালান চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে করে আনা হয় নারায়ণগঞ্জের পাগলা পর্যন্ত। সেখান থেকে কেরানীগঞ্জ দিয়ে নৌযানে করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা হয়ে এই মাদক রাজধানীতে ঢোকে। নৌপথকে ব্যবহার করা হয় চট্টগ্রাম থেকেও। বন্দরনগরী থেকে বিভিন্ন নৌযানে বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরে পাঠানো হয় ইয়াবা। সেখান থেকে আবার নৌপথেই ঢাকায় ঢুকে এই নীরব ঘাতক। নৌপথে তেমন কোনো চেকপোস্ট নেই, এই সুযোগই লুফে নেয় মাদক কারবারিরা। রেলপথে কারবারিরা চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে ইয়াবা নিয়ে আসে গাজীপুরের টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশনে। কিছু চালান তারা চট্টগ্রাম থেকে প্লেনে নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিয়ে যায়। সেখান থেকেও ট্রেনে আনা হয় ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে। আবার মাঝেমধ্যে কিছু চালান সৈয়দপুর থেকে প্লেনেই ঢাকায় আসে। এর বাইরে যাত্রীবাহী বাস বা অন্য পরিবহনেও ইয়াবার চালান ঢাকায় ঢুকে। সেসব চালানের হাতবদল হয় মহাখালী, শ্যামলী, মিরপুর ও ভাষানটেকের মতো এলাকাগুলোতে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। রাজধানীর সব রুটে নজরদারি আছে। এ বিষয়ে মহানগর পুলিশ বেশি তৎপর। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে ছদ্মবেশে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। নজরদারি ফলে অভিনব কায়দায় লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি থেকে মাদক চালান উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ।

তিনি আরো বলেন, আমরা ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক উদ্ধারের চেষ্টা করছি। দেশের অভ্যন্তরে একবার মাদক ঢুকে গেলে সেটি খুঁজে বের করা কঠিন। তাই সীমান্তে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদের আরো তৎপর ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো পরামর্শ পুলিশের এ কর্মকর্তার।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

 

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com