নেত্রকোনা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

নবাবগঞ্জে মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ, নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের উত্তর মুরাদপুর গ্রামের জামে মসজিদের জমির মালিকানা, ব্যক্তিগত জমিতে মসজিদ থাকায় নিজেদের মসজিদ দাবি করে বিভিন্ন মুসল্লিদের সাথে খারাপ আচরণ, মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা প্রদান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঐ মসজিদের সভাপতি ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় মসজিদের ৭ মুসল্লীকে নামাজে বাধা ঈমামের বেতন গ্রহনে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে সভাপতির বিরুদ্ধে ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছে মুসল্লীরা।
মসজিদের মুসল্লী মো: হাফিজুর ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ মমতাজ আলী তার নিজ নামীয় জমি মসজিদের নামে দানপত্র দলিল মুলে মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রদান করেন। পরে ঐ জমিতে স্থানীয়রা তাদের ও সরকারি অনুদানে ৩ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা পর্যন্ত মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের ৮বছর অতিবাহিত হওয়ার পর সভাপতি মোঃ মমতাজ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম, আবু তালেব, ও আবু সাঈদ দাবি করেন এই জমি তাদের নামে মসজিদকে দলিল করে দেয়ার পুর্বে তাদের নামে দলিল করে দিয়েছে তাদের পিতা মমতাজ আলী। ফলে সভাপতি ও তার ছেলেরা মসজিদের বিভিন্ন বিষয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে একক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে এবং মুসল্লীদের সাথে খারাপ আচরন করতে থাকে।
এক পর্যায়ে মুসল্লিদের সাথে সভাপতি ও তার ছেলেদের বাকবিতন্ডা হয়। ফলে সভাপতি ও তার ছেলেরা মুসল্লিদের মধ্যে ৭জনকে মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধ করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ।
মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জমিদাতা মমতাজ আলী মুসল্লীদের নামাজ আদায়ে নিষেধের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন আমি কাউকে নামাজ আদায়ে নিষেধ করি নাই। তবে মসজিদের নামে জমি দেয়ার পুর্বে তার ছেলেদের নামে জমি দেয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। সেটি ভুল হয়েছে তাও স্বীকার করেন।
মুসল্লীদের সাথে বাকবিতন্ডার বিষয়ে সভাপতি বলেন- আমরা জমি দিয়েছি আমাদের জায়গায় মসজিদ, অথচ মুসল্লিদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের উপরে খবরদারি করার কারনে মুসল্লীদের সাথে এ ঘটনা ঘটেছে ।
মসজিদ কমিটির সভাপতির ছেলে মোঃ আবু তালেব বলেন, যখন এই জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তখন তারা বাঁধা দিয়েছিল এবং এই জমি তাদের নামে আছে তাও প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তখন তাদের সাথে তাদের পিতার ভাল সম্পর্ক না থাকায় তাদের পিতা স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়ে ঐ মসজিদ নির্মাণ করেন । তারা আরো বলেন- তাদের নামে জমি আছে , তারা সে মসজিদের নামে দিবে এবং নামাজ পড়তেও কারো নিষেধ নেই। তবে হাফিজুর ইসলাম সহ তার অনুসারী কয়েকজনকে ঐ মসজিদের সমাজ ভুক্ত করলে তারা জমি দিবেনা।
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি আমরা নামাজ পড়তে গেলে আমাদের সাথে সভাপতি ও তার ছেলেরা খারাপ আচরণ করে, উল্টাপাল্টা কথা বলছে মসজিদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এমন অবস্থা নিরসনের জন্য আমরা স্থানীয় উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত ভাবে বিচার চেয়েছি। কিন্তু সেখানে সভাপতি ও তার ছেলেরা উপস্থিত হয় না।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে মুসল্লীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় মসজিদের জমির বিষয়টি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২
জনপ্রিয়

নবাবগঞ্জে মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ, নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

আপডেট : ০৯:১৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২০
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের উত্তর মুরাদপুর গ্রামের জামে মসজিদের জমির মালিকানা, ব্যক্তিগত জমিতে মসজিদ থাকায় নিজেদের মসজিদ দাবি করে বিভিন্ন মুসল্লিদের সাথে খারাপ আচরণ, মসজিদে নামাজ আদায়ে বাধা প্রদান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঐ মসজিদের সভাপতি ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় মসজিদের ৭ মুসল্লীকে নামাজে বাধা ঈমামের বেতন গ্রহনে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে সভাপতির বিরুদ্ধে ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করেছে মুসল্লীরা।
মসজিদের মুসল্লী মো: হাফিজুর ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ মমতাজ আলী তার নিজ নামীয় জমি মসজিদের নামে দানপত্র দলিল মুলে মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রদান করেন। পরে ঐ জমিতে স্থানীয়রা তাদের ও সরকারি অনুদানে ৩ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলা পর্যন্ত মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের ৮বছর অতিবাহিত হওয়ার পর সভাপতি মোঃ মমতাজ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম, আবু তালেব, ও আবু সাঈদ দাবি করেন এই জমি তাদের নামে মসজিদকে দলিল করে দেয়ার পুর্বে তাদের নামে দলিল করে দিয়েছে তাদের পিতা মমতাজ আলী। ফলে সভাপতি ও তার ছেলেরা মসজিদের বিভিন্ন বিষয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে একক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে এবং মুসল্লীদের সাথে খারাপ আচরন করতে থাকে।
এক পর্যায়ে মুসল্লিদের সাথে সভাপতি ও তার ছেলেদের বাকবিতন্ডা হয়। ফলে সভাপতি ও তার ছেলেরা মুসল্লিদের মধ্যে ৭জনকে মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধ করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ।
মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জমিদাতা মমতাজ আলী মুসল্লীদের নামাজ আদায়ে নিষেধের বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন আমি কাউকে নামাজ আদায়ে নিষেধ করি নাই। তবে মসজিদের নামে জমি দেয়ার পুর্বে তার ছেলেদের নামে জমি দেয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। সেটি ভুল হয়েছে তাও স্বীকার করেন।
মুসল্লীদের সাথে বাকবিতন্ডার বিষয়ে সভাপতি বলেন- আমরা জমি দিয়েছি আমাদের জায়গায় মসজিদ, অথচ মুসল্লিদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের উপরে খবরদারি করার কারনে মুসল্লীদের সাথে এ ঘটনা ঘটেছে ।
মসজিদ কমিটির সভাপতির ছেলে মোঃ আবু তালেব বলেন, যখন এই জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তখন তারা বাঁধা দিয়েছিল এবং এই জমি তাদের নামে আছে তাও প্রকাশ করেছিল। কিন্তু তখন তাদের সাথে তাদের পিতার ভাল সম্পর্ক না থাকায় তাদের পিতা স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়ে ঐ মসজিদ নির্মাণ করেন । তারা আরো বলেন- তাদের নামে জমি আছে , তারা সে মসজিদের নামে দিবে এবং নামাজ পড়তেও কারো নিষেধ নেই। তবে হাফিজুর ইসলাম সহ তার অনুসারী কয়েকজনকে ঐ মসজিদের সমাজ ভুক্ত করলে তারা জমি দিবেনা।
স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি আমরা নামাজ পড়তে গেলে আমাদের সাথে সভাপতি ও তার ছেলেরা খারাপ আচরণ করে, উল্টাপাল্টা কথা বলছে মসজিদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এমন অবস্থা নিরসনের জন্য আমরা স্থানীয় উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত ভাবে বিচার চেয়েছি। কিন্তু সেখানে সভাপতি ও তার ছেলেরা উপস্থিত হয় না।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে মুসল্লীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় মসজিদের জমির বিষয়টি নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।