নেত্রকোনা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত,১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী

  • আপডেট : ০২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ১২৬২ বার পঠিত

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে পদ্মার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করেছে। তবে কয়েক দিন আগের তুলনায় পানি বৃদ্ধির পরিমান বর্তমানে কম রয়েছে।

তাদের ধারণা দু’এক দিনের মধ্যে পানি কমতে থাকবে। এদিকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সহ¯্রাধিক পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকে তারা জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে।

আকষ্মিক বন্যায় চরাঞ্চলের প্রায় ১৫’শ হেক্টর জমির মাষকলাইসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। দেরীতে বন্যার হওয়ার কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। সেই সাথে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ধরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

ভারতের ফারাক্কা হয়ে পদ্মায় পড়ছে পানি। তবে গত দু’দিন পানি বৃদ্ধির পরিমান কিছুটা কমেছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ০.১২ সেন্টিমিটার করে পানি কমছে। দু’দিন আগেও পানি বৃদ্ধির পরিমান ছিল প্রায় .২৪ সেন্টিমিটার। গত বৃহস্পতিবার সকালে পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩.৮৬ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা হল ১৪.২৫ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ০.৩৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহি হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিক পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবাদী ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর লোকালয়ের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। দু’দিন আগেও যেসব এলাকা শুকনা পানিশুন্য ছিল, এখন সেখানে পদ্মার পানি থৈ থৈ করছে। যেদিকে চোখ পড়ে শুধু পানি আর পানি। চলাচলের সব রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে ঘর হতে বের হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। নৌকায় তাদের চলার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের সোনাতলা, চরসোনাতলা, চলি­শপাড়া, সৌদিপাড়া. ঠাকুরপাড়া, চরপাড়া, ইনসাফনগর, চিলমারী, চরচিলমারী, মানিকেরচর, বাংলাবাজার, চরবাহিরমাদী, বাহিরমাদী, ভবনন্দদিয়াড়, আতারপাড়াসহ ৩৭ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ও ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।

দু’টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরাসহ পানিবন্দী সাধারণ মানুষ পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা এই ৪ ইউনিয়নের চাষকরা আবাদী জমির প্রায় ১৫’শ মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৯কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চলের মাঠগুলো গত এক সপ্তাহ আগেও যেখানে সবুজ ফসলে ভরপুর ছিল। পদ্মার আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে তা তলিয়ে গিয়ে সব জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

ভাগজোত এলাকার কৃষক কাবিল হোসেন জানান, বন্যার পানিতে তার ৮ বিঘা জমির মাস কলাই ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফিলিপনগর গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের প্রায় ৪০ বিঘা জমির মাষকলাই পানিতে তলিয়ে গেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ২৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। অর্থকরী ফসল মাসকলাই ডুবে কৃষকরা সর্বশাস্ত হয়েছে। অনেকের বাড়ি আঙিনায় ও ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। বর্তমানে তারা মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও পানিবন্দী মানুষের জন্য সরকারী সহায়তার দাবি জানান।

দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুর রহমান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সাংসদ এ্যাডঃ সারওয়ার জাহান বাদশা বলেন, পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪ ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বহু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে তিনি জানান। এছাড়ও তিনি চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সেখানে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানান। পানিবন্দী হয়ে মানুষ যেন দুর্ভোগে না পড়েন সে জন্য বন্যা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করেন ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

দৌলতপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত,১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী

আপডেট : ০২:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে পদ্মার পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করেছে। তবে কয়েক দিন আগের তুলনায় পানি বৃদ্ধির পরিমান বর্তমানে কম রয়েছে।

তাদের ধারণা দু’এক দিনের মধ্যে পানি কমতে থাকবে। এদিকে হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সহ¯্রাধিক পরিবারের বাড়িঘরে পানি ঢুকে তারা জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে।

আকষ্মিক বন্যায় চরাঞ্চলের প্রায় ১৫’শ হেক্টর জমির মাষকলাইসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। দেরীতে বন্যার হওয়ার কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। সেই সাথে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ধরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

ভারতের ফারাক্কা হয়ে পদ্মায় পড়ছে পানি। তবে গত দু’দিন পানি বৃদ্ধির পরিমান কিছুটা কমেছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ০.১২ সেন্টিমিটার করে পানি কমছে। দু’দিন আগেও পানি বৃদ্ধির পরিমান ছিল প্রায় .২৪ সেন্টিমিটার। গত বৃহস্পতিবার সকালে পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১৩.৮৬ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা হল ১৪.২৫ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার ০.৩৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহি হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিক পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে আবাদী ফসল তলিয়ে যাওয়ার পর লোকালয়ের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। দু’দিন আগেও যেসব এলাকা শুকনা পানিশুন্য ছিল, এখন সেখানে পদ্মার পানি থৈ থৈ করছে। যেদিকে চোখ পড়ে শুধু পানি আর পানি। চলাচলের সব রাস্তা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৭ গ্রামের প্রায় ১০হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে ঘর হতে বের হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। নৌকায় তাদের চলার একমাত্র অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের সোনাতলা, চরসোনাতলা, চলি­শপাড়া, সৌদিপাড়া. ঠাকুরপাড়া, চরপাড়া, ইনসাফনগর, চিলমারী, চরচিলমারী, মানিকেরচর, বাংলাবাজার, চরবাহিরমাদী, বাহিরমাদী, ভবনন্দদিয়াড়, আতারপাড়াসহ ৩৭ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের বসতবাড়ি ও ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।

দু’টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরাসহ পানিবন্দী সাধারণ মানুষ পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা এই ৪ ইউনিয়নের চাষকরা আবাদী জমির প্রায় ১৫’শ মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রায় ৯কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চলের মাঠগুলো গত এক সপ্তাহ আগেও যেখানে সবুজ ফসলে ভরপুর ছিল। পদ্মার আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে তা তলিয়ে গিয়ে সব জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

ভাগজোত এলাকার কৃষক কাবিল হোসেন জানান, বন্যার পানিতে তার ৮ বিঘা জমির মাস কলাই ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফিলিপনগর গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় তাদের প্রায় ৪০ বিঘা জমির মাষকলাই পানিতে তলিয়ে গেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ২৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। অর্থকরী ফসল মাসকলাই ডুবে কৃষকরা সর্বশাস্ত হয়েছে। অনেকের বাড়ি আঙিনায় ও ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। বর্তমানে তারা মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও পানিবন্দী মানুষের জন্য সরকারী সহায়তার দাবি জানান।

দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুর রহমান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ত্রান সামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে। পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সাংসদ এ্যাডঃ সারওয়ার জাহান বাদশা বলেন, পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৪ ইউনিয়নের মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বহু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে তিনি জানান। এছাড়ও তিনি চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সেখানে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা জানান। পানিবন্দী হয়ে মানুষ যেন দুর্ভোগে না পড়েন সে জন্য বন্যা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করেন ।