নেত্রকোনা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দূর্গাপুরে অটোচালক সাইদুল হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন

  • আপডেট : ০৭:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ৪৩৬

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন, নেত্রকোনা :

নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চালক সাইদুল ইসলাম (২৭) হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তিন খুনিকে গ্রেফতার করেছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্‌সী বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে জানান, দূর্গাপুর উপজেলার পশ্চিম বিলাশপুর গ্রামের মৃত সদর আলীর পুত্র অটো চালক সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের ন্যায় তার ব্যাটারী চালিত অটো (ইজিবাইক) নিয়ে ২রা সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ী থেকে বের হয়।

রাতে সে বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং তার মোবাইল বন্ধ থাকায় স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুজি শুরু করে। তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে তার স্ত্রী ৩রা সেপ্টেম্বর দূর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টায় সময় ভারতীয় সীমান্তবর্তী মিনকিফান্দা গ্রামের মরাখলা পাহাড়ের পাশে বান্দরের টিলায় হাত মুখ বান্ধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন খবর পেয়ে সাইদুলের স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্যরা থানায় গিয়ে লাশের গায়ে জামা কাপড় দেখে এটি সাইদুলের লাশ বলে সনাক্ত করে। এ ব্যাপারে নিহত সাইদুলের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করে ৮ সেপ্টেম্বর দূর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে নামে।

তদন্তকালে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালডাংড়ি গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র শাহীন ওরফে মোল্লা (৩৫), শেরপুর জেলার পাকুরিয়া গনই মমিনাকান্দা গ্রামের আশরাফুল ওরফে আশারুলের পুত্র মানিক মিয়া (২৭) এবং নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের কমর উদ্দির ওরফে কেনু মেম্বারের পুত্র সেকুল ইসলামের (২৭) নাম উঠে আসে।

জেলা পুলিশের একটি চৌকস টীম আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সোমবার প্রথমে সেকুলকে দূর্গাপুর উপজেলার লক্ষীপুর বাজার হতে গ্রেফতার করে। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উঁচাখিলা বাজার হতে আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার এবং তার হেফাজতে থাকা চোরাই অটোটি উদ্ধার করে। ধৃত আসামীদের দেয়া তথ্য মতে ঐদিন গভীর রাতে শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া গণই মমিনাকান্দা হতে হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করে।

গত মঙ্গলবার বিকালে আসামীদেরকে নেত্রকোনা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা কলে আসামীরা ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী প্রদান করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

ইরাকে সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, হতাহত ৯

দূর্গাপুরে অটোচালক সাইদুল হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন

আপডেট : ০৭:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন, নেত্রকোনা :

নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চালক সাইদুল ইসলাম (২৭) হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তিন খুনিকে গ্রেফতার করেছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্‌সী বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে জানান, দূর্গাপুর উপজেলার পশ্চিম বিলাশপুর গ্রামের মৃত সদর আলীর পুত্র অটো চালক সাইদুল ইসলাম প্রতিদিনের ন্যায় তার ব্যাটারী চালিত অটো (ইজিবাইক) নিয়ে ২রা সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ী থেকে বের হয়।

রাতে সে বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং তার মোবাইল বন্ধ থাকায় স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুজি শুরু করে। তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে তার স্ত্রী ৩রা সেপ্টেম্বর দূর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টায় সময় ভারতীয় সীমান্তবর্তী মিনকিফান্দা গ্রামের মরাখলা পাহাড়ের পাশে বান্দরের টিলায় হাত মুখ বান্ধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন খবর পেয়ে সাইদুলের স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্যরা থানায় গিয়ে লাশের গায়ে জামা কাপড় দেখে এটি সাইদুলের লাশ বলে সনাক্ত করে। এ ব্যাপারে নিহত সাইদুলের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের আসামী করে ৮ সেপ্টেম্বর দূর্গাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্তে নামে।

তদন্তকালে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালডাংড়ি গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র শাহীন ওরফে মোল্লা (৩৫), শেরপুর জেলার পাকুরিয়া গনই মমিনাকান্দা গ্রামের আশরাফুল ওরফে আশারুলের পুত্র মানিক মিয়া (২৭) এবং নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের কমর উদ্দির ওরফে কেনু মেম্বারের পুত্র সেকুল ইসলামের (২৭) নাম উঠে আসে।

জেলা পুলিশের একটি চৌকস টীম আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সোমবার প্রথমে সেকুলকে দূর্গাপুর উপজেলার লক্ষীপুর বাজার হতে গ্রেফতার করে। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উঁচাখিলা বাজার হতে আসামী সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার এবং তার হেফাজতে থাকা চোরাই অটোটি উদ্ধার করে। ধৃত আসামীদের দেয়া তথ্য মতে ঐদিন গভীর রাতে শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া গণই মমিনাকান্দা হতে হত্যাকান্ডের মাস্টার মাইন্ড মানিক মিয়াকে গ্রেফতার করে।

গত মঙ্গলবার বিকালে আসামীদেরকে নেত্রকোনা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা কলে আসামীরা ১৬৪ ধারায় হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী প্রদান করেন।