নেত্রকোনা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী পাঠ্য বই বিক্রির অভিযোগ

  • আপডেট : ০৪:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২০
  • ১১৭২ বার পঠিত

গত ১ জানুয়ারী সারাদেশে নতুন বই উৎসব পালিত হয়েছে। সরকার বিনা মূল্য দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীরা হাতে তুলে দিয়েছে নতুন বই। আর এই নতুন বই নিয়ে বিদ্যালয়েও আসতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা । সবার চোখে মুখেই যেনো বইছে নতুন বই পাওয়ার আন্দন। কিন্তু এই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই অভিযোগ উঠেছে সরকারী বই বিক্রির।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে এমন একটি অভিযোগ। পৌরসভাস্থ ৭নং বিরিশিরির দক্ষিণ ভবানীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার দুপুরে ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ শিক্ষাবর্ষের সরকারী বই স্থানীয় এক হকারের কাছে বিক্রিকালে হাতে না হাতেই বই আটক করেছে এলাকাবাসীরা।

পৌর শহরের ৭নং বিরিশিরি ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৩ সালে স্থাপিত হয় । পরে ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণের আওতায় আনে সরকার। বর্তমানে শিশু শ্রেণীতে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২ শত ৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। আর বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ করে সরকার। এই বই এর অবশিষ্ট কিছু সহ পুরনো শিক্ষা বর্ষের সরকারী বই সহ বিক্রিয় করে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জান াযায়, আটককৃত বইয়ের মাঝে বিদ্যালয়ে ১ম ও ২য় সহ সকল শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান সহ নানা রকম নতুন পুরাতন প্রায় ১ শত ২৫ কেজি সরকারী বই আটক করে তারা। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার ১ শত ১৫ কেজি খাতা যা প্রধান শিক্ষক হকারের কাছে প্রতি কেজি বই ৮ টাকা ও খাতা ৯ টা দরে বিক্রিয় করে। বই গুলো নিয়ে হকার দোকানে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা হকারকে আটক করে। পরে তারা জানতে পারে প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলামই সরকারী বই গুলো অবৈধ ভাবে বিক্রির করছে।

বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সদস্যরা ঘটনা স্থলে গিয়ে হকারের কাছ থেকে প্রাথমিক শাখার সরকারী বই গুলোকে জব্দ করেন। এই সময় স্থানীয়রা সরকারী বই বিক্রির করা জন্য উত্তোজিত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের শান্ত করে জব্দকৃত সরকারী বই ও পরিক্ষার খাতা গুলোকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নিয়ে আসেন সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাগীর আলম জানায়, শুধু বই নয় আরো গত তিন মাস পূর্বে নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলামের সাথে যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের চত্বরের গাছ থেকে শুরু করে নানা রকম দুর্নীতি করে আসছে তারা। আর শিক্ষার্থী বই চাইলেই বলে বই নাই। কিন্তু তারা বিক্রির জন্য বই ঠিকই থাকে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বই গুলো পরে আছে। ফলে কক্ষ সবসময় বন্ধ করে রাখতে হয় তাই শ্রেণীকক্ষে বৃদ্ধি আর পুরনো বই গুলোতে বিদ্যালয় থেকে সরানো জন্যই বই আর খাতা গুলো বিক্রিয় করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সরকারী বই বিক্রিয় করা কোনো নিয়ম বা অনুমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেই। আর দক্ষিণ ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যে কাজটি করেছে তা পুরোপুরি অন্যায়। তার বিরুদ্ধে জেলার কর্মকর্তা সাথে সমন্বয় করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

দুর্গাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী পাঠ্য বই বিক্রির অভিযোগ

আপডেট : ০৪:৩৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২০

গত ১ জানুয়ারী সারাদেশে নতুন বই উৎসব পালিত হয়েছে। সরকার বিনা মূল্য দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীরা হাতে তুলে দিয়েছে নতুন বই। আর এই নতুন বই নিয়ে বিদ্যালয়েও আসতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা । সবার চোখে মুখেই যেনো বইছে নতুন বই পাওয়ার আন্দন। কিন্তু এই আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই অভিযোগ উঠেছে সরকারী বই বিক্রির।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে এমন একটি অভিযোগ। পৌরসভাস্থ ৭নং বিরিশিরির দক্ষিণ ভবানীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল সোমবার দুপুরে ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ শিক্ষাবর্ষের সরকারী বই স্থানীয় এক হকারের কাছে বিক্রিকালে হাতে না হাতেই বই আটক করেছে এলাকাবাসীরা।

পৌর শহরের ৭নং বিরিশিরি ওয়ার্ডের দক্ষিণ ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৩ সালে স্থাপিত হয় । পরে ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণের আওতায় আনে সরকার। বর্তমানে শিশু শ্রেণীতে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ২ শত ৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। আর বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ করে সরকার। এই বই এর অবশিষ্ট কিছু সহ পুরনো শিক্ষা বর্ষের সরকারী বই সহ বিক্রিয় করে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জান াযায়, আটককৃত বইয়ের মাঝে বিদ্যালয়ে ১ম ও ২য় সহ সকল শ্রেণীর বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান সহ নানা রকম নতুন পুরাতন প্রায় ১ শত ২৫ কেজি সরকারী বই আটক করে তারা। এছাড়াও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিক্ষার ১ শত ১৫ কেজি খাতা যা প্রধান শিক্ষক হকারের কাছে প্রতি কেজি বই ৮ টাকা ও খাতা ৯ টা দরে বিক্রিয় করে। বই গুলো নিয়ে হকার দোকানে যাওয়ার পথে স্থানীয়রা হকারকে আটক করে। পরে তারা জানতে পারে প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলামই সরকারী বই গুলো অবৈধ ভাবে বিক্রির করছে।

বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সদস্যরা ঘটনা স্থলে গিয়ে হকারের কাছ থেকে প্রাথমিক শাখার সরকারী বই গুলোকে জব্দ করেন। এই সময় স্থানীয়রা সরকারী বই বিক্রির করা জন্য উত্তোজিত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের শান্ত করে জব্দকৃত সরকারী বই ও পরিক্ষার খাতা গুলোকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নিয়ে আসেন সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাগীর আলম জানায়, শুধু বই নয় আরো গত তিন মাস পূর্বে নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলামের সাথে যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের চত্বরের গাছ থেকে শুরু করে নানা রকম দুর্নীতি করে আসছে তারা। আর শিক্ষার্থী বই চাইলেই বলে বই নাই। কিন্তু তারা বিক্রির জন্য বই ঠিকই থাকে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে বই গুলো পরে আছে। ফলে কক্ষ সবসময় বন্ধ করে রাখতে হয় তাই শ্রেণীকক্ষে বৃদ্ধি আর পুরনো বই গুলোতে বিদ্যালয় থেকে সরানো জন্যই বই আর খাতা গুলো বিক্রিয় করেছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সরকারী বই বিক্রিয় করা কোনো নিয়ম বা অনুমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেই। আর দক্ষিণ ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যে কাজটি করেছে তা পুরোপুরি অন্যায়। তার বিরুদ্ধে জেলার কর্মকর্তা সাথে সমন্বয় করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।