বৃহস্পতিবার ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ডিটেকটিভ সাজিদ

তুষার আলী :  |  আপডেট ৬:১৫ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০ | প্রিন্ট  | 158

ডিটেকটিভ সাজিদ

সারাদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে খাবার শেষ করে মিমের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাতে হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো! স্যার, রফিক উদ্দিন নামে এক ভদ্রলোক মারা গেছেন। তার বাড়ির লোকের সন্দেহ এটা খুন! আপনি যদি এখন আসতেন, খুব ভালো হতো!

পরিবেশটা একটু দেখে যেতেন। ডিটেকটিভ হওয়ার এই একটা সমস্যা, রাত-বেরাত নাই যখন তখন ফোন চলে আসে। অবশ্য এটাকে আমি উপভোগ করি। গত কয়েক বছর ধরে ডিটেকটিভ এর চাকরিতে জয়েন করছি। ডিটেকটিভ মহলে বেশ খ্যাতি রয়েছে আমার। এই কয়েক বছরে অনেকগুলা কেস সমাধান করেছি। প্রায় সবগুলা কেসই একসপ্তাহের মধ্যেই সমাধান করেছিলাম। কি আর করার,  বললাম আচ্ছা আসছি, তুমি আমাকে ঠিকানাটা মেসেজ করে দাও। মিমকে আর ডাকলাম না, বেরিয়ে পড়লাম ছাতাটা নিয়ে। এখনো হালকা বৃষ্টি হচ্ছে। এত রাতে গাড়ি পাওয়া বেশ মুশকিল। আমার প্রাইভেট ট্যাক্সি ড্রাইভার সিপনকে ফোন দিলাম। বললাম, আমার বাড়ির কাছে চলে আসতে। একটু পড় সিপন আসলো, চললাম দুজন। স্যার, আজকে আবার কিসের কেস। কে মরছে? বললাম রফিক নামের এক ব্যক্তি।


স্যার আপনার কী মনে হয়, খুন নাকি সাধারণ মৃত্যু? আমি বললাম, আমি পর্যবেক্ষণ না করে কীভাবে বলবো? এই সিপন ছোকরাটা একটু বেশি কথা বলে। তবে, ওর কৌতুহলটা আমার ভালো লাগে। ও একবার আমার একটা কেস সমাধান করতে সহায়তা করেছিল, যদিও তা পরোক্ষভাবে। আমার মনে হয়, আমার সাথে থাকতে থাকতে সিপনও কিছুটা ডিটেকটিভ মনা হয়ে গেছে। অবশ্য সেটা ভালোই! বাড়ি মেইন গেটে এসে গাড়ি থামলো। আমি বললাম, সিপন এখানে গাড়িটা পার্ক কর, আমি ভেতরটা পর্যবেক্ষণ করে আসি। বাড়িটা বেশ বড়ো। মনে হলো রফিক সাহেব বেশ ধনী লোক ছিলেন। মানুষ মারা গেলে যে তার ধন সম্পদ কোনো কাজে আসে না, তা ইনার অবস্থা দেখেই বুঝলাম।

কিছুদূর যেতেই রাকিব বললো, স্যার চলে এসেছেন। আসুন ভেতরে। রাকিব আমার সাথেই কাজ করে, আমার জুনিয়র। ছেলেটা বেশ ভালো ডিটেকটিভ হবে বলে আমার মনে হয়। বেশ চতুর সে। আমাকে বাড়ির বাগানের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে লাশটি পড়ে আছে। আমি বললাম, কেউ স্পর্শ করেনি তো? রাকিব বললো, না স্যার। বললাম লাশ প্রথম কে দেখেছে? রাকিব বললো, উনার ছোট ভাই। উনাকে ডেকে কিছু প্রশ্ন করলাম। বললাম বাড়িতে আর কে কে আছেন? তিনি বললেন, বড় ভাই ছিলেন, ভাবি,  আমি আর দুজন কাজের লোক। আমি বললাম, আপনি কখন রফিক সাহেবকে মৃত অবস্থায় দেখেছেন? বললো, সন্ধ্যা বেলায়। বড় ভাই, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির বাগানের কাছে একটা ছোট ঘর আছে ওখানে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটাতেন!

আমার আজকে বাগানে যেতে ইচ্ছা করছিল, সেখানে গিয়েই দেখি ভাই পড়ে, আছেন! আমি বললাম, কাউকে সন্দেহ হয়? তিনি বললেন, আমাদের বাসার কাজের লোক আজিম চাচাকে আমার সন্দেহ হয়! তিনি, সবসময় বড় ভাইয়ের আশেপাশে থাকতেন! আমি বললাম, আচ্ছা আপনি এখন আসতে পারেন! আজিম চাচাকে ডেকে পাঠালাম। লোকটাকে দেখে মনে হয়না ইনার দ্বারা খুন করা সম্ভব! সরল একজন মানুষ মনে হলো। তবে, ডিটেকটিভ হিসেবে সন্দেহ করা আমার অধিকার। উনাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কতদিন এ বাসায় কাজ করেন? তিনি বললেন, প্রায় দশ বছর স্যার! উনাকে বেশ কিছু প্রশ্ন  করলাম, চেষ্টা করলাম উনাকে দোষ শিকার করাতে। কিন্তু প্রশ্ন করে কিছু বের করতে পারলাম না। উনাকে বললাম, আপনার কাউকে সন্দেহ হয়? তিনি বললেন, সাহেব, আমি একটা কথা বলতে চাই, কিন্তু আমার কোন সমস্যা হবে নাতো? তিনি বললেন, আমার তো রফিক স্যারের বউয়ের উপর সন্দেহ হয়। কখনো তাদের দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখিনি।

আমি সেই রাতে চলে আসলাম। মনে হলো, এবারের কেসটা বেশ জটিল। রাকিবকে বললাম লাশটাকে মর্গে পাঠাও। আসার সময় পুরো বাড়িটা পর্যবেক্ষণ করে এসেছিলাম। বাড়িতে এসে রাতে আর ঘুমালাম না! মিম আমাকে চিন্তায় দেখে বললো, কী ব্যাপার এত চিন্তিত দেখাচ্ছে তোমাকে। আমি বললাম আজ একটা চমৎকার কেস পেয়েছি। সকাল বেলা রাকিবকে সাথে নিয়ে গেলাম, রফিক সাহেবের বাসায়। আজ উনার বউয়ের সাথে কথা হলো, ভদ্র মহিলা কথায় কথায় কাঁদছিলেন। আমি বললাম, আপনার কাউকে সন্দেহ হয়? তিনি বললেন, আমার স্বামী একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তাকে কেই বা মারবে। বললাম আপনার দেবর সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বললেন, উনি আমার আপন দেবর নন, রফিকের খালাতো ভাই। ও প্রায় ২০ বছর যাবৎ আমাদের এখানে থেকে রফিকের ব্যবসা দেখাশোনা করে!

আমি সেদিন চলে আসলাম। রাকিবকে বললাম, এই বাড়ির সবার উপর নজর রাখতে, প্রায় দুই মাস কেটে গেলো, কেসের কোন সমাধানে আসতে পারলাম না, দুইমাস পর রফিক সাহেবের স্ত্রীর সাথে আবার কথা বললাম, আচ্ছা একটা কথা বলুনতো রফিক সাহেবের সম্পত্তি উনি মারা যাবার পরকে পাবেন? তিনি বললেন আমি, আর ওর ভাই অর্ধেক করে। আপনি মারা গেলে? পুরোটাই ওর খালাতো ভাই রাজু পাবে! আমি বাড়িতে চলে আসলাম। রাকিবকে বললাম, চলো আজ আমরা খুনিকে ধরবো।

রাকিব তো চমকে গেলো। আমরা মৃত রফিক সাহেবের বাড়িতে গেলাম! উনার স্ত্রীর রুমের পাশে দুজন লুকালাম। রাত ১০টা নাগাদ একজন ব্যক্তিকে উনার ঘরে ঘুকতে দেখলাম। হাতে একটা ধারালো ছুরি ছিলো। দুজন পেছন পেছন গিয়ে তাকে ধরলাম! কায়দা করে বেঁধে ফেললাম! রফিক সাহেবের স্ত্রী জেগে উঠে চমকে গেলেন! বললেন কে ইনি, আর উনাকে এভাবে বেধেছেন কেন? আমি বললাম, এ আপনাকে হত্যা করতে এসেছিল। একটু পর দেখলাম রাজু সাহেব আসলেন। আমি বললাম রাজু সাহেব এবার  আপনি ব্যর্থ হলেন। রাকিব উনাকে গ্রেপ্তার করো।

রফিক সাহেবের স্ত্রীকে বললাম, রাজু সাহেবই আপনার স্বামীকে হত্যা করেছেন। আর আপনাকেও করতে চেয়েছিলেন। যাতে তিনি সমস্ত সম্পদের মালিক হতে পারেন। গতকাল বাজারের পেছনের ঝোপটায় এই ব্যক্তিটির সাথে কথা বলতে দেখে সন্দেহ হয়েছিল। পরে খোঁজ নিয়ে জানলাম এ একজন সিরিয়াল কিলার! এর নামে বেশ কয়েকটা খুনের মামলা রয়েছে থানায়। কিন্তু পুলিশ একে ধরতে পারছে না প্রমাণের অভাবে। বুঝতে পারলাম ঘটনাটা কী ঘটতে চলেছে।

আজ তোমাকে হাতেনাতে ধরেছি বাছা, এবার আর রক্ষা নেই তোমার। দুজন আসামিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বাড়িতে চলে আসলাম। মিমকে বললাম, চলো মিম কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসি। মিম বললো হঠাৎ কেন। বললাম মনে করো দ্বিতীয় হানিমুনে। কেসটা সমাধান হয়ে মনটা অনেক হালকা হলো। তবে, এমন জটিল কেস খুব কম পাওয়া যায়। সম্পদের জন্য নিজের ভাইকেও মানুষ খুন করে।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

রাবি/হাকিম মাহি

 

Source link

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com