নেত্রকোনা ১২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে ফসলি জমি রক্ষার্থে সরিষাক্ষেতে মানববন্ধন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা চরপাড়া গ্রামে তিন ফসলি জমি রক্ষার্থে সরিষাক্ষেতে এলাকাবাসীর মানবন্ধন হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে পাকুল্যা চরপাড়ায় সরিষা ক্ষেতে শত শত কৃষক মাটি ব্যবসায়ি ও ভাটা মালিকদের হাত থেকে ফসলি জমি বাঁচাতে এলাকাবাসী মানবন্ধন করে।

সরজমিনে দেখা যায়, পাকুল্যা চরপাড়ায় ৩ ফসলি আবাদী জমির পশ্চিমাংশের প্রায় ৫ একর জমিতে কয়েক বছর যাবত মাটি ব্যবসায়িরা ভেকু বসিয়ে ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে আবাদ অনুপযোগি করে ফেলেছে। ফসলি জমি হারিয়ে শত শত কৃষক মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের ওই জমিগুলোতে চৈত্র মাস অবধি পানি থাকার কারণে কোন প্রকার চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি মাটি ব্যবসায়িদের নজর পড়েছে পূর্বাংশের প্রায় ১০ এক জমিতে।

তারা ভেকু বসিয়ে মাটি কাটা শুরু করেছে। স্থানীয় কৃষকরা ওই জমি রক্ষার্থে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে কোন বিচার পাচ্ছে না। উপরন্তু ব্রিক ফিল্ড মালিক ও মাটি ব্যবসায়িরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করার হুমকী দিচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আবু সাইদ মিয়া (৭০), এছাক মিয়া (৭০), ছানোয়ার হোসেন (৬৫), চাঁন খা (৬৫), প্রতিবন্ধী কাদের মিয়া (৬০), গিয়াস উদ্দিন (৫০), রবি (৬০), বিলাত আলী (৭৫), মতি (৭০), শওকত (৫৫), কদ্দুছ (৫৫), নুরুল ইসলাম (৫২) সহ অনেকেই জানান উচ্চ মূল্যের লোভ দেখিয়ে প্রথমে দু-একজন কৃষকের নিকট থেকে জমির মাটি ক্রয় করে অনেক গভীর পর্যন্ত গর্ত করে মাটি খনন করে। এর ফলে পাশর্^বর্তী জমিগুলো ধ্বসে আবাদের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। উপায়ন্তর না পেয়ে পাশর্^বর্তী জমির মালিক মাটি বিক্রী করতে বাধ্য হয়। এর ফলে এ গ্রামের শতাধিক কৃষক মাটি ব্যবসায়িদের কবল থেকে রক্ষা পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সরিষাক্ষেতে মানবন্ধন করে।

মাটি ব্যবসায়ি মুক্তার আলী খান বলেন, আমরা উপযুক্ত মূল্য দিয়ে জমির মালিকদের নিকট থেকে মাটি ক্রয় করি। এতে দোষের কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।

এ বিষয়ে মির্জাপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনুল হক এর মুঠোফোনে (০১৭১৪-৫০৫৭৩৭) বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

টাঙ্গাইলে ফসলি জমি রক্ষার্থে সরিষাক্ষেতে মানববন্ধন

আপডেট : ০৯:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জানুয়ারী ২০২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্যা চরপাড়া গ্রামে তিন ফসলি জমি রক্ষার্থে সরিষাক্ষেতে এলাকাবাসীর মানবন্ধন হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে পাকুল্যা চরপাড়ায় সরিষা ক্ষেতে শত শত কৃষক মাটি ব্যবসায়ি ও ভাটা মালিকদের হাত থেকে ফসলি জমি বাঁচাতে এলাকাবাসী মানবন্ধন করে।

সরজমিনে দেখা যায়, পাকুল্যা চরপাড়ায় ৩ ফসলি আবাদী জমির পশ্চিমাংশের প্রায় ৫ একর জমিতে কয়েক বছর যাবত মাটি ব্যবসায়িরা ভেকু বসিয়ে ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে আবাদ অনুপযোগি করে ফেলেছে। ফসলি জমি হারিয়ে শত শত কৃষক মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের ওই জমিগুলোতে চৈত্র মাস অবধি পানি থাকার কারণে কোন প্রকার চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি মাটি ব্যবসায়িদের নজর পড়েছে পূর্বাংশের প্রায় ১০ এক জমিতে।

তারা ভেকু বসিয়ে মাটি কাটা শুরু করেছে। স্থানীয় কৃষকরা ওই জমি রক্ষার্থে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে কোন বিচার পাচ্ছে না। উপরন্তু ব্রিক ফিল্ড মালিক ও মাটি ব্যবসায়িরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বিভিন্ন মামলায় হয়রানি করার হুমকী দিচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আবু সাইদ মিয়া (৭০), এছাক মিয়া (৭০), ছানোয়ার হোসেন (৬৫), চাঁন খা (৬৫), প্রতিবন্ধী কাদের মিয়া (৬০), গিয়াস উদ্দিন (৫০), রবি (৬০), বিলাত আলী (৭৫), মতি (৭০), শওকত (৫৫), কদ্দুছ (৫৫), নুরুল ইসলাম (৫২) সহ অনেকেই জানান উচ্চ মূল্যের লোভ দেখিয়ে প্রথমে দু-একজন কৃষকের নিকট থেকে জমির মাটি ক্রয় করে অনেক গভীর পর্যন্ত গর্ত করে মাটি খনন করে। এর ফলে পাশর্^বর্তী জমিগুলো ধ্বসে আবাদের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। উপায়ন্তর না পেয়ে পাশর্^বর্তী জমির মালিক মাটি বিক্রী করতে বাধ্য হয়। এর ফলে এ গ্রামের শতাধিক কৃষক মাটি ব্যবসায়িদের কবল থেকে রক্ষা পেতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সরিষাক্ষেতে মানবন্ধন করে।

মাটি ব্যবসায়ি মুক্তার আলী খান বলেন, আমরা উপযুক্ত মূল্য দিয়ে জমির মালিকদের নিকট থেকে মাটি ক্রয় করি। এতে দোষের কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।

এ বিষয়ে মির্জাপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মইনুল হক এর মুঠোফোনে (০১৭১৪-৫০৫৭৩৭) বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।