নেত্রকোনা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ এর খসড়া মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

  • আপডেট : ০৯:৩০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯
  • ১১৭৪ বার পঠিত

‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার সরবরাহের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তবে শুরুতে চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার স্কুলগুলোতে এই সুবিধা দেওয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্কুল মিল প্রকল্প পরিচালিত হবে। তবে এখন একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১০৪টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল মিল কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি চালু হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর আওতায় চলে আসবে। এই কর্মসূচির আওতায় তিন থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের দৈনিক শক্তি চাহিদার ৩০ শতাংশ (ক্যালরি) পূরণ করবে এমন খাবার দিতে হবে এই মিল থেকে।

সচিব জানান, স্কুল মিল চালুর জন্য ‘জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ’ তৈরি করা হবে। এর উপদেষ্টা কমিটি থাকবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল মিল বাস্তবায়নের জন্য পরিচালনা কমিটি থাকবে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউএনও এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান যুক্ত থাকবেন।

তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১০১টি উপজেলায় উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। আর তিনটি উপজেলায় প্রাথমিক স্কুলে দেওয়া হচ্ছে রান্না করা খাবার। এই প্রকল্প মনিটরিং করে দেখা গেছে, যেসব স্কুলে রান্না করা খাবার দেওয়া হয় সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে ১১ শতাংশ। বিস্কুট দেওয়া হয় যেসব স্কুলে সেখানে ছয় শতাংশ উপস্থিতি বেড়েছে।

সচিব জানান, সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ছয় দিন বিস্কুট দিলে খরচ হবে দুই হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। আর পাঁচ দিন রান্না করা খাবার ও একদিন বিস্কুট দিলে খরচ হবে পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।  অন্যদিকে বিস্কুট, ডিম, কলা দিলে খরচ হবে সাত হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। বর্তমানে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৬৬ হাজার। শিক্ষার্থী এক কোটি ৪০ লাখ। এখন ১০৪টি উপজেলায় খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা।  এখন ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুল এই সুবিধা পাচ্ছে। স্কুল মিলের জন্য শিক্ষার্থী প্রতি সর্বোচ্চ খরচ হবে ২৫ টাকা। শুধু বিস্কুটে খরচ ৯ টাকা, রান্না করা খাবার ১৬ থেকে ১৮ টাকা, ডিম-কলা-বিস্কুট দিলে খরচ হবে ২৫ টাকা।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ডিম, কলা ও রুটি দেওয়ার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবার তৈরির জন্য আলাদাভাবে কোনও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। আর স্কুল প্রাঙ্গণে খাবার রান্না করলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষকরা সম্পৃক্ত হলে পড়ালেখার ক্ষতি হবে। বিদ্যালয়ের পরিবেশেরও ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ডিম-কলা-পাউরুটি দেওয়া হতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ এর খসড়া মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

আপডেট : ০৯:৩০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯

‘জাতীয় স্কুল মিল নীতি-২০১৯’ এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার সরবরাহের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তবে শুরুতে চর, হাওর ও দুর্গম এলাকার স্কুলগুলোতে এই সুবিধা দেওয়া হবে।

মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্কুল মিল প্রকল্প পরিচালিত হবে। তবে এখন একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১০৪টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল মিল কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি চালু হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর আওতায় চলে আসবে। এই কর্মসূচির আওতায় তিন থেকে ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের দৈনিক শক্তি চাহিদার ৩০ শতাংশ (ক্যালরি) পূরণ করবে এমন খাবার দিতে হবে এই মিল থেকে।

সচিব জানান, স্কুল মিল চালুর জন্য ‘জাতীয় স্কুল মিল কর্মসূচি কর্তৃপক্ষ’ তৈরি করা হবে। এর উপদেষ্টা কমিটি থাকবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল মিল বাস্তবায়নের জন্য পরিচালনা কমিটি থাকবে। শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউএনও এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান যুক্ত থাকবেন।

তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১০১টি উপজেলায় উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। আর তিনটি উপজেলায় প্রাথমিক স্কুলে দেওয়া হচ্ছে রান্না করা খাবার। এই প্রকল্প মনিটরিং করে দেখা গেছে, যেসব স্কুলে রান্না করা খাবার দেওয়া হয় সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বেড়েছে ১১ শতাংশ। বিস্কুট দেওয়া হয় যেসব স্কুলে সেখানে ছয় শতাংশ উপস্থিতি বেড়েছে।

সচিব জানান, সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক স্কুলে ছয় দিন বিস্কুট দিলে খরচ হবে দুই হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। আর পাঁচ দিন রান্না করা খাবার ও একদিন বিস্কুট দিলে খরচ হবে পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।  অন্যদিকে বিস্কুট, ডিম, কলা দিলে খরচ হবে সাত হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। বর্তমানে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা ৬৬ হাজার। শিক্ষার্থী এক কোটি ৪০ লাখ। এখন ১০৪টি উপজেলায় খরচ হচ্ছে ৪৭৪ কোটি টাকা।  এখন ১৫ হাজার ৩৪৯টি স্কুল এই সুবিধা পাচ্ছে। স্কুল মিলের জন্য শিক্ষার্থী প্রতি সর্বোচ্চ খরচ হবে ২৫ টাকা। শুধু বিস্কুটে খরচ ৯ টাকা, রান্না করা খাবার ১৬ থেকে ১৮ টাকা, ডিম-কলা-বিস্কুট দিলে খরচ হবে ২৫ টাকা।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, রান্না করা খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ডিম, কলা ও রুটি দেওয়ার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবার তৈরির জন্য আলাদাভাবে কোনও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। আর স্কুল প্রাঙ্গণে খাবার রান্না করলে নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। শিক্ষকরা সম্পৃক্ত হলে পড়ালেখার ক্ষতি হবে। বিদ্যালয়ের পরিবেশেরও ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ডিম-কলা-পাউরুটি দেওয়া হতে পারে।