নেত্রকোনা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি সংকটে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা ব্যাহত

  • আপডেট : ০৪:২৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
  • ১২৩৪ বার পঠিত

নাঈম আলী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দুই মাস ধরে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েই চলেছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও যন্ত্রপাতি সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা। ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও গাইনি, অ্যানেস্থেশিয়া. সার্জারি, মেডিসিনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো চিকিৎসক নেই।

প্রায় তিন লক্ষাধিক লোকের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১৮ সালে আট কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। অথচ বাড়েনি শয্যাসংখ্যা ও জনবল। হাসপাতালের ২৪ চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র চারজন। সে কারণে ইউনিয়ন সাব-সেন্টার থেকে তিনজন চিকিৎসক এনে জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে চালানো হচ্ছে। নার্সের পদ ১৫টি হলেও আছেন ১২ জন। মেডিসিন, গাইনিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসকের ২০টি পদই শূন্য। সেইসঙ্গে রয়েছে যন্ত্রপাতির সংকট। এক্স-রে ছাড়া আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই হয় না এ হাসপাতালে। ফলে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে হয়।

সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে দু’মাস ধরে রোগীদের ভিড় লেগেই আছে। হাসপাতালে বিদ্যমান শয্যায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রতিদিন নিচে জায়গা নিতে হচ্ছে এসব রোগীকে। তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালে ভর্তিকৃত এসব রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরা।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসক সংকটের কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংকটের কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সংকট নিরসন করা গেলে মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২
জনপ্রিয়

চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতি সংকটে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা ব্যাহত

আপডেট : ০৪:২৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

নাঈম আলী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দুই মাস ধরে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়েই চলেছে। তবে চিকিৎসক, নার্স ও যন্ত্রপাতি সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা। ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও গাইনি, অ্যানেস্থেশিয়া. সার্জারি, মেডিসিনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে কোনো চিকিৎসক নেই।

প্রায় তিন লক্ষাধিক লোকের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০১৮ সালে আট কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটিকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। অথচ বাড়েনি শয্যাসংখ্যা ও জনবল। হাসপাতালের ২৪ চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র চারজন। সে কারণে ইউনিয়ন সাব-সেন্টার থেকে তিনজন চিকিৎসক এনে জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে চালানো হচ্ছে। নার্সের পদ ১৫টি হলেও আছেন ১২ জন। মেডিসিন, গাইনিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসকের ২০টি পদই শূন্য। সেইসঙ্গে রয়েছে যন্ত্রপাতির সংকট। এক্স-রে ছাড়া আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই হয় না এ হাসপাতালে। ফলে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাতে হয়।

সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে দু’মাস ধরে রোগীদের ভিড় লেগেই আছে। হাসপাতালে বিদ্যমান শয্যায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রতিদিন নিচে জায়গা নিতে হচ্ছে এসব রোগীকে। তাদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালে ভর্তিকৃত এসব রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরা।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইয়াহহিয়া বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসক সংকটের কারণে কমলগঞ্জ উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সংকটের কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সংকট নিরসন করা গেলে মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।