বৃহস্পতিবার ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

চলচ্চিত্রে ‘বয়কট’ কার স্বার্থে

বিনোদন প্রতিবেদক :  |  আপডেট ৮:০৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০ | প্রিন্ট  | 147

চলচ্চিত্রে ‘বয়কট’ কার স্বার্থে

[ad_1]




‘দাদা আমি সাতে-পাঁচে থাকি না/ যে যা করে দেখে যাই, সুবিধাটা নিয়ে যাই-/ ধুম করে প্রকাশ্যে আসি না’- পশ্চিম বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের লেখা এই কবিতার সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকের চরিত্রের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। যারা সুযোগ পেলেই সুবিধা আদায় করে নেন। অথচ কোনো কিছুতেই দেখা মেলে না তাদের। কোনো বিষয়েই রা করেন না। বলা যায়- ঘাপটি মেরে থাকেন।

দেশে নতুন সিনেমা তৈরি হোক আর না হোক, চলচ্চিত্র অঙ্গনের লোকেরা প্রায়ই গর্জে ওঠেন। কখনও স্বার্থ সংরক্ষণের দাবিতে, আবার কখনও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে। বয়কট, নিষিদ্ধ, অবাঞ্ছিত, বন্ধ করে দেওয়া- এসব নেতিবাচক শব্দ বারবার উচ্চারিত হয় চলচ্চিত্র পাড়ায়। কখনও শোনা যায় না- কাজ করতে দাও, হল খুলে দাও, সিনেপ্লেক্স চাই। এসব ইতিবাচক শব্দগুলো নিয়ে চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। কিন্তু আন্দোলন হয় না। আন্দোলন হয় নেতিবাচক বিষয় নিয়ে। এতে কেউ হচ্ছেন বলির পাঠা। আবার কারো ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার পায়। অথচ চলচ্চিত্রের ভাগ্য নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই!

করোনা মহামারিতে টালমাটাল বিশ্ব। দীর্ঘ পাঁচমাস সিনেমার সব কার্যক্রম বন্ধ। সিনেমা হলে তালা ঝুলছে। দেশের সবকিছু এখন স্বাভাবিকভাবে চলছে। অথচ হল খোলা নিয়ে শুধু চিঠি চালাচালি হচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে চিরতরে সিনেমা হল বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। এ নিয়ে প্রতিবাদ হতে পারতো। চলচ্চিত্রের এই করুণ সময়ে মিশা সওদাগর-জায়েদ খানকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতিসহ ১৮ সংগঠন।

এ নিয়ে চলচ্চিত্রের ১৮টি সংগঠন ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে। দুই পক্ষ থেকেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। দুই পক্ষ থেকেই দেওয়া হচ্ছে হুঙ্কার। এতে বিপাকে পড়েছেন চলচ্চিত্রের কিছু শিল্পী ও কলাকুশলী। দুই পক্ষ থেকেই সাধারণ শিল্পী ও কলাকুশলীদের ফোন করে সঙ্গে থাকার কথা বলা হচ্ছে। এসব কারণে একটি পক্ষ কারো সঙ্গে না-থেকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমান সময়ের ব্যস্ততম পরিচালক, শিল্পী ও প্রযোজকদের অনেকেই কারো সঙ্গে নেই। কোনো পক্ষকেই তারা সমর্থন করছেন না। তারা এই দলাদলির পক্ষেও না। তারা চাচ্ছেন কাজ। যে যা করে যাচ্ছে তা নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। এদিকে যারা বয়কটের পক্ষে-বিপক্ষে তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা বা অভিনয় করছেন না। কেউ কেউ এই সময় আগুনে ঘি ঢালছেন। সুযোগ পেয়ে একটা পক্ষ নিচ্ছেন তারা।

আবার কেউ হচ্ছেন বলির পাঠা। চলচ্চিত্রের এই ‘বয়কট’-এ বলির পাঠা হলো হিরো আলম। তিনি প্রযোজক সমিতির নবাগত সদস্য। তার প্রযোজিত সিনেমাটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানের বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেদিন চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, পরিচালক সমিতির নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি অনেক বাঘা বাঘা নেতা। কিন্তু হিরো আলম সেদিন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান। যদিও তার সেদিন কোনো অভিযোগ ছিলো না। তারপরও তাকে কেন বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হলো? এমন প্রশ্ন অনেকের। এর উত্তরও রয়েছে অনেকের কাছে। তাদের দাবি- হিরো আলমকে দিয়ে কিছু বলাতে পারলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল! অথচ সেদিনের বক্তব্যের কারণে অনন্ত জলিলের সিনেমা থেকে বাদ পড়েছেন হিরো আলম।

চলচ্চিত্রের বর্তমানে যারা ‘বয়কট’-এর পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন তারাই একটা সময় একসঙ্গে আন্দোলন করে শাকিব খান ও আব্দুল আজিজকে বয়কট করেছেন। সেসময় শাকিব খানের পক্ষ যারা নিয়েছিলেন তাদের অধিকাংশ এখন মিশা-জায়েদের বয়কটের পক্ষে। চলচ্চিত্রের এই বয়কট খেলা নতুন নয়। অতীতে দেখা গেছে, যে পারফর্মার জনপ্রিয়, তাকেই বয়কটে পড়তে হয়েছে। এই তালিকা থেকে অঞ্জু ঘোষ, ওমর সানি, মৌসুমী, পপি, শাকিব খান কেউ বাদ যাননি। এই জুলাই মাসেই বয়কট হতে হয়েছে অমর নায়ক সালমান শাহকে। সেসময় চলচ্চিত্রের অবস্থা ভালো ছিলো। অথচ চলচ্চিত্রের এখন ক্রান্তিকাল। এখন তো এতো বিভেদ থাকার কথা নয়। কারো ভুলত্রুটি থাকলে সিনিয়র শিল্পী, নির্মাতারা বসে সমাধান করবেন।  চলচ্চিত্রের সংকট নিরসনে এক হয়ে কাজ করলে চলচ্চিত্রের ভাগ্যের উন্নতি ঘটবে। তাতে উভয় পক্ষেরই মঙ্গল।

ঢাকা/তারা

[ad_2]

Source link

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com