নেত্রকোনা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গৌরীপুরে যৌতুকের জন্য দফায় দফায় নির্যাতনের পর স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী !

  • আপডেট : ০৫:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০১৯
  • ৫০২

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
যৌতুক হিসেবে দু’লক্ষ টাকা দিতে না পারায় রোকেয়া খাতুন (১৯) নামে এক তরুনীর ওপর দফায় দফায় নির্যাতন চালানোর পর বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় যুবক নূরুল হক পাভেল (২৫) ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফায় দেন-দরবার হলেও ওই তরুনীকে ঘরে তুলে নেননি তার যৌতুকলোভী স্বামী। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তরুনী তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামে। রোকেয়া খাতুন এ গ্রামের সুরুজ আলীর মেয়ে। স্বামী পাভেল একই গ্রামের প্রতিবেশী সুরুজ আলীর ছেলে।
রোকেয়া জানান, পাভেলকে ভালোবেসে গত ০৯/০৯/১৮ ইং তারিখ কাবিনমূলে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর পাভেলের বাবা-মা এ সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় নিজ বাপের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে একত্রে বসবাস শুরু করেন। জীবিকার তাগিদে কিছুদিন পর তারা নারায়নগঞ্জে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকুরি নেন। চাকুরির সুবাধে তারা নারায়নগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। সেখানে থাকা অবস্থায় পাভেলের বাবা-মা তাদের সম্পর্ক মেনে নেন এবং তাদেরকে বাড়িতে চলে আসতে বলেন। সেমতে রোকেয়া তার স্বামীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে এসে ঘর-সংসার শুরু করেন। সেখানে কয়েকদিন যেতে না যেতেই শ্বশুর-শ্বাশুড়ির যোগসাজসে স্বামী পাভেল তাকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে দু’লক্ষ টাকা এনে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাকে বাড়ির উঠানে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের পর শরীরে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেন পাভেল। এ অবস্থায় যন্ত্রণায় ডাক-চিৎকার করিলে প্রতিবেশী লোকজন তাকে উদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য এ নির্যাতনের ঘটনায় সেসময় এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি দেন-দরবার হয়। এই দেন-দরবারের সিদ্ধান্তক্রমে আর নির্যাতন করবে না বলে তাকে ঘরে তুলে নেন পাভেল ও তার বাবা-মা। কিন্তু এর পরেও তার ওপর চলে দফায় দফায় অমানবিক নির্যাতন।
রোকেয়া আরো বলেন, যৌতুকের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সর্বশেষ ১৮/০৯/১৯ তারিখ দুপুরে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি সকলে মিলে বেধড়কভাবে পিঠিয়ে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এদিকে দফায় দফায় নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ৩টি দেন-দরবার হলেও দরবারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেন তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। তাই নিরুপায় হয়ে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪৪৭)।
স্থানীয় নূরুল ইসলাম, হাসিম উদ্দিন সরকারসহ আরো কয়েকজন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রোকেয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সামজিকভাবে এলাকায় ৩টি দেন-দরবার হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই রোকেয়ার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি দরবারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসছেন।
এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে পাভেলের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।
জনপ্রিয়

পূর্বধলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন

গৌরীপুরে যৌতুকের জন্য দফায় দফায় নির্যাতনের পর স্ত্রীকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী !

আপডেট : ০৫:৪৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০১৯

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
যৌতুক হিসেবে দু’লক্ষ টাকা দিতে না পারায় রোকেয়া খাতুন (১৯) নামে এক তরুনীর ওপর দফায় দফায় নির্যাতন চালানোর পর বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় যুবক নূরুল হক পাভেল (২৫) ও তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় কয়েক দফায় দেন-দরবার হলেও ওই তরুনীকে ঘরে তুলে নেননি তার যৌতুকলোভী স্বামী। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তরুনী তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামে। রোকেয়া খাতুন এ গ্রামের সুরুজ আলীর মেয়ে। স্বামী পাভেল একই গ্রামের প্রতিবেশী সুরুজ আলীর ছেলে।
রোকেয়া জানান, পাভেলকে ভালোবেসে গত ০৯/০৯/১৮ ইং তারিখ কাবিনমূলে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর পাভেলের বাবা-মা এ সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় নিজ বাপের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে একত্রে বসবাস শুরু করেন। জীবিকার তাগিদে কিছুদিন পর তারা নারায়নগঞ্জে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকুরি নেন। চাকুরির সুবাধে তারা নারায়নগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। সেখানে থাকা অবস্থায় পাভেলের বাবা-মা তাদের সম্পর্ক মেনে নেন এবং তাদেরকে বাড়িতে চলে আসতে বলেন। সেমতে রোকেয়া তার স্বামীকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে এসে ঘর-সংসার শুরু করেন। সেখানে কয়েকদিন যেতে না যেতেই শ্বশুর-শ্বাশুড়ির যোগসাজসে স্বামী পাভেল তাকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে দু’লক্ষ টাকা এনে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাকে বাড়ির উঠানে গাছের সাথে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের পর শরীরে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেন পাভেল। এ অবস্থায় যন্ত্রণায় ডাক-চিৎকার করিলে প্রতিবেশী লোকজন তাকে উদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য এ নির্যাতনের ঘটনায় সেসময় এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি দেন-দরবার হয়। এই দেন-দরবারের সিদ্ধান্তক্রমে আর নির্যাতন করবে না বলে তাকে ঘরে তুলে নেন পাভেল ও তার বাবা-মা। কিন্তু এর পরেও তার ওপর চলে দফায় দফায় অমানবিক নির্যাতন।
রোকেয়া আরো বলেন, যৌতুকের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সর্বশেষ ১৮/০৯/১৯ তারিখ দুপুরে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি সকলে মিলে বেধড়কভাবে পিঠিয়ে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এদিকে দফায় দফায় নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ৩টি দেন-দরবার হলেও দরবারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেন তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। তাই নিরুপায় হয়ে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৪নং আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪৪৭)।
স্থানীয় নূরুল ইসলাম, হাসিম উদ্দিন সরকারসহ আরো কয়েকজন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রোকেয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সামজিকভাবে এলাকায় ৩টি দেন-দরবার হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই রোকেয়ার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি দরবারের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসছেন।
এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে পাভেলের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হলে সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।