সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গৌরীপুরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির

শাহজাহান কবির,গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ  |  আপডেট ৮:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০ | প্রিন্ট  | 183

গৌরীপুরে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির

সারাবিশ্বে একদিকে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ অন্যদিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে খেটে-খাওয়া নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

অনেক সবজির মূল্য সেঞ্চুরি পেরিয়ে গেছে আবার অনেক সবজির দাম কেজি প্রতি ১০০ টাকা ছুঁইছুঁই করছে। সবজি ও পেঁয়াজের এমন চড়া দামের সাথে নতুন করে বেড়েছে চাল, ডাল, তেল, ডিম, আলু ও কাঁচামরিচের দাম।মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গৌরীপুর বাজার, অচিন্তপুর বাজার, নাহড়া বাজার, ডৌহাখলা বাজার, শ্যামগঞ্জ বাজার, কলতাপাড়া বাজার, বীরপুর মোড়ের বাজার, ভূটিয়ারকোনা বাজার, গোবিন্দপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মধ্যেই আলুর দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা, কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা, ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ৫-১০ টাকা, ভোজ্যতেল কেজিতে বেড়েছে ২০-২৫ টাকা।


এসব বাজারের বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিক্রি হওয়া ৪৫ টাকা কেজির আলু এ সপ্তাহের শুরুতেই ৫০ টাকা, ১১০ টাকা ডজনের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, ১৬০ টাকা কেজির কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি, ১৬০ টাকা কেজির ধনিয়া পাতা বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। বাজারে শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি, টমেটো ১২০-১৩০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০-১২০ টাকা কেজি, গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি, গত সপ্তাহেই এই সবজিগুলো বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকার কমে।বাজারের অন্যান্য সবজিগুলোও ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।



পটোলের কেজি ৬০-৭০ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি, একেকটা লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা দরে। ঝিঙা, কাকরোল, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।বাজারে নতুন আসা ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৫০ টাকা কেজি। মুলা, পেঁপে’র কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।স্বস্তি নেই পেঁয়াজেও। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। আমদানী করা বড় আকারের ভারতীয় পেঁয়াজের কেজির জন্যও গুনতে হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা। গত মাসে ভারত রপ্তানী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের বিষয়ে গৌরীপুর বাজারে আসা সাইফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, বাজারে এসে মোটেও শান্তি পাই না। সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। ১০০টাকার সবজি দিয়ে একবেলাও চলে না। সবজির এতো দাম স্বাধীনতার পর আর দেখিনি।

আরেকজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ আমাদের দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর অচিরেই পদত্যাগ করা উচিত।

কৃষিমন্ত্রী ডঃ আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে কালীপুর মধ্যমতরফের এক ক্রেতা বলেন, এমন দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন বক্তব্য আমরা আর শুনতে চাই না। তিনি আরো বলেন, অনেকদিন ধরেই সবজির দাম খুব চড়া। এর মধ্যেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া বিপাকে পড়ে গেছি।শ্যামগঞ্জ বাজারের ক্রেতা রতন মিয়া বলেন, আগে কখনো পুরাতন আলু ৫০ টাকা কেজি হয়নি, আর এখন ৫০ টাকা কেজি দরে আলু কিনতে হচ্ছে, কাঁচামরিচ কিনতে হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। প্রায় সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার বেশি। সবকিছুর দাম এমন অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে আমরা চলবো কি করে?



কলতাপাড়া বাজারের ক্রেতা আঃ ছালাম বলেন, বাজারে গেলেই শুনি কোনো না কোনো সবজির দাম বেড়েই চলেছে। কিন্তু আমাদের আয় বাড়ার বদলে উল্টো কমেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে আমাদের পক্ষে এই বাজারমূল্যে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

রিক্সাচালক আঃ হেলিম বলেন, সারাদিন রিক্সা চালিয়ে যা পাই তা দিয়ে কোন রকমে টেনে-টুনে সংসার চলছে। কিন্তু বর্তমানে দু’এক জাতের সবজি আর চাল কিনতেই সারাদিনের কামাই চলে যায়। মাছ-মাংস কিনার কোন সুযোগই পাইনা।
দিনমজুর রশিদ বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। এই দুর্মূল্যের বাজারে কি করে চলবো ভেবে পাচ্ছি না, চালের দাম যেমনি বাড়ছে তার সাথে তাল রেখে বাজারের সব জিনিসের দামও বেড়েই চলেছে।

সবজির মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে গৌরীপুর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মানিক বলেন, ‘বাজারে আগের তুলনায় শিম, গাজরের সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু অন্যান্য সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে আসার পরও দাম কমছে না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, শীতের সবজি ভরপুর না আসা পর্যন্ত শাক-সবজির দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই।


শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com