বুধবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গৌরীপুরে টেন্ডারের মাধ্যমে শতবর্ষী গাছ বিক্রি হলেও জানে না কেউ 

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :  |  আপডেট ৭:০৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৩ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  | 168

গৌরীপুরে টেন্ডারের মাধ্যমে শতবর্ষী গাছ বিক্রি হলেও জানে না কেউ 

ময়মনসিংহের গৌরীপুর-কলতাপাড়া পাকা সড়কে তাতকুড়া বাজার এলাকায় শতবর্ষী তিনটি সরকারি রেইন্ট্রি গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও এ বিষয়ে এসিল্যান্ড ছাড়া জানেন না সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা। কবে কোথায় কখন টেন্ডার হয়েছে আর ক’জন টেন্ডারে অংশ গ্রহন করেছেন এসব সকলের অজানা। দুই লাখ টাকার অধিক মুল্যের গাছ মৌখিক টেন্ডারে বিক্রি করা হয়েছে মাত্র অর্ধ লক্ষ টাকায়।

ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ রেখে ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষার্থে কেটে ফেলা হয়েছে তিনটি বিশাল আকৃতির গাছ। এক সপ্তাহ ধরে কাঠুরিয়ার মাধ্যমে গাছগুলো কাটছেন স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী। অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হলে শনিবার (১৩ জুন) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তিনটি গাছের মধ্যে একটি গাছ জব্দ করে নিজ জিম্মায় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এসিল্যান্ড মোঃ মাসুদ রানার ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় কয়েকজন জানান, উল্লেখিত স্থানে বিশাল আকৃতির তিনটি রেইন্ট্রি গাছের বয়স হবে প্রায় একশ বছর। গত এক সপ্তাহ ধরে এ গাছগুলো কাটেন স্থানীয় একদল কাঠুরে। একেক এসময় একেক ব্যক্তি ভূমি অফিস, বন বিভাগ অথবা এলজিইডি অফিসের লোক বলে এ গাছ কাটার তদারকি করতে দেখেন তারা।

তাতকুড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ মেম্বার বলেন, গাছ কাটার তদারিক করতে আসা দু’ব্যক্তিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, উপর থেকে ব্যবস্থা করে গাছ কাটার অনুমতি আনা হয়েছে।

কার নির্দেশে কোন প্রক্রিয়ায় এ গাছগুলি কাটা হচ্ছে তদারকিকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পেয়ে স্থানীয় লোকজন সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবগত করেন।

স্থানীয় ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার বলেন, প্রাচীন এ গাছগুলোর টেন্ডারের বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন না। গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে শনিবার ঘটনাস্থল থেকে একটি গাছ গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে এনে নিজ রাখেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, গাছগুলোর মুল্য হবে প্রায় দুই লাখ টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী গাছগুলোর টেন্ডার হলে এর ৪০% অর্থ ইউনিয়ন পরিষদে জমা হতো।

ডৌহাখলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের জানান, কিছুদিন আগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছিল। তিনি শুধু গাছের অবস্থান ও পারিপার্শিকতা বর্ণনা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
গাছ কাটা যাইতে পারে এমন কথা প্রতিবেদনে ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাকে নয়, এসিল্যান্ড স্যারকে জিাগান।’

গৌরীপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সেজুঁতি ধর সাংবাদিকদের জানান, তিনি গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাছাড়া এ বিষয়টি তাঁর কার্যালয়ের নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
উপজেলা বন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গাছ বিক্রির টেন্ডার ও গাছ কাটা এ বিষয়ে কোন কিছু জানেন না তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মুহম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান জানান, অনেক আগে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে উল্লেখিত সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ কাটার একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল। এ কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি এ প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন। টেন্ডারের বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন না।

তিনি আরো বলেন, এলজিইডি অফিস থেকে উল্লেখিত সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া গাছ চিহ্নিত করা হয়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, উল্লেখিত বাজারের স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সমস্যা হওয়ায় তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে গাছগুলো কাটার অনুমতি দেয়া হয়েছে। নীতিমালা মেনে মৌখিক দরপত্রে মুল্য নির্ধারণ করে ৫১ হাজার ৮৫০ টাকায় গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। টেন্ডারে কে পেয়েছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দাড়ি আছে এমন একজন হুজুর।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাছগুলোর অবস্থান বাজারের দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম ও খলিলুর রহমান ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সামনে। নতুন দোকান ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে তাদের গাছ কাটার প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মূল্যবান গাছগুলি বিভিন্ন কৌশলে প্রশাসনের সহযোগিতায় কেটে ফেলার উদ্যোগ নেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমার ঘরের পাশে একটা গাছ খুব ঝামেলা করছিল। তাই এসিল্যান্ড অফিসে বইল্যা কাডাইতাছি।

গাছগুলি কাটার দায়িত্বে থাকা মো. ইব্রাহিম জানান, ১০ জন লেবারে গত সাতদিন ধইর‌্যা কাটতাছে। প্রতিদিন তাদের ৭শ টাকা করে দিতাছি। এর চেয়ে বেশী কিছু আমি জানি না।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com