নেত্রকোনা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ,আহত-২০

  • আপডেট : ০৭:১৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯
  • ৪২৭

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :

দলীয় কর্মীকে মারধরের জেরে মধ্যরাতে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ছাত্রদের আবাসিক হল এলাকায় থেমে থেমে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ উভয় গ্রæপের অন্তত ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে সাতজনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রæপের নেতাকর্মীদের হাতে লোহার রড, রামদা, জিআই পাইপ, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে উভয় গ্রæপ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মী সাদ্দাম হোসেন হলের ২৩৫ নং কক্ষে যায়। তারা রুমের দরজায় লাথি মারতে থাকলে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রæপের কর্মী মোশাররফ হোসেন নীল রুম থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর রাকিবের নেতৃত্বে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সুমনসহ অন্যান্যরা নীলকে শাসাতে থাকে। একপর্যায়ে নীলকে চড়-থাপ্পড় মারে তারা।

পরে নীল তার হল গ্রæপের নেতাকর্মীদের জানালে আলমগীর হোসেন আলোর নেতৃত্বে তারা সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে আসে। এ সময় সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সুমনসহ নেতাকর্মীরাও সাদ্দাম হলের সামনে আসে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিদ্রোহী গ্রæপের কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক গ্রæপের কর্মীদের মারধর শুরু করে। এতে সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রæপের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু হলের সামনে অবস্থান নেয়। অপরদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রæপের নেতাকর্মীরা জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয়।

এ সময় উভয় গ্রæপের কর্মীরা পরস্পরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে শেখ রাসেল হলের সামনে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। বিদ্রোহী গ্রæপের ধাওয়া খেয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রæপের নেতাকর্মীরা আবাসিক হলের ভেতর গিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে দেয়।

এ সময় উভয়পক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দেখা যায়। ঘটনার একপর্যায়ে জিয়া মোড়সহ লালন শাহ হল ও জিয়া হলের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ এবং কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও সহকারী প্রক্টর এস এম নাসিমুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, এ ঘটনাটি একেবারেই অনাকাংখিত। এটিকে পুঁজি করে কিছু অছাত্র ও বহিরাগত ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রæপের নেতা তন্ময় সাহা টনি বলেন, শোকের মাসে সাধারণ সম্পাদক খাবাররত অবস্থায় আমাদের দুই কর্মীকে মারধর করেছে। আমরা এর কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই গ্রæপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলি। সবাই এখন নিজ নিজ হলে অবস্থান করছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ,আহত-২০

আপডেট : ০৭:১৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :

দলীয় কর্মীকে মারধরের জেরে মধ্যরাতে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত ছাত্রদের আবাসিক হল এলাকায় থেমে থেমে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ উভয় গ্রæপের অন্তত ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে সাতজনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রæপের নেতাকর্মীদের হাতে লোহার রড, রামদা, জিআই পাইপ, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে উভয় গ্রæপ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে প্রায় ২০/২৫ জন নেতাকর্মী সাদ্দাম হোসেন হলের ২৩৫ নং কক্ষে যায়। তারা রুমের দরজায় লাথি মারতে থাকলে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রæপের কর্মী মোশাররফ হোসেন নীল রুম থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর রাকিবের নেতৃত্বে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সুমনসহ অন্যান্যরা নীলকে শাসাতে থাকে। একপর্যায়ে নীলকে চড়-থাপ্পড় মারে তারা।

পরে নীল তার হল গ্রæপের নেতাকর্মীদের জানালে আলমগীর হোসেন আলোর নেতৃত্বে তারা সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে আসে। এ সময় সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সুমনসহ নেতাকর্মীরাও সাদ্দাম হলের সামনে আসে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিদ্রোহী গ্রæপের কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক গ্রæপের কর্মীদের মারধর শুরু করে। এতে সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রæপের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু হলের সামনে অবস্থান নেয়। অপরদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রæপের নেতাকর্মীরা জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয়।

এ সময় উভয় গ্রæপের কর্মীরা পরস্পরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে শেখ রাসেল হলের সামনে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। বিদ্রোহী গ্রæপের ধাওয়া খেয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রæপের নেতাকর্মীরা আবাসিক হলের ভেতর গিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে দেয়।

এ সময় উভয়পক্ষের কাছে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা দেখা যায়। ঘটনার একপর্যায়ে জিয়া মোড়সহ লালন শাহ হল ও জিয়া হলের সামনে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ এবং কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও সহকারী প্রক্টর এস এম নাসিমুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, এ ঘটনাটি একেবারেই অনাকাংখিত। এটিকে পুঁজি করে কিছু অছাত্র ও বহিরাগত ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রæপের নেতা তন্ময় সাহা টনি বলেন, শোকের মাসে সাধারণ সম্পাদক খাবাররত অবস্থায় আমাদের দুই কর্মীকে মারধর করেছে। আমরা এর কারণ জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই গ্রæপের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলি। সবাই এখন নিজ নিজ হলে অবস্থান করছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।