বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে দুইটি ইউনিয়ন নিশ্চিহ্নের শংকা

 |  আপডেট ১:১১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০২ নভেম্বর ২০১৯ | প্রিন্ট  | 218

কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভাঙ্গনে দুইটি ইউনিয়ন নিশ্চিহ্নের শংকা

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :

প্রমত্ত পদ্মায় কমছে পানি ভাঙ্গছে পাড় স্থাপনা আর বাড়িঘর। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ভাটিতে পদ্মার ডানপাড়স্থ কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার ২নং বহলবাড়িয়া ও ৩নং তালবাড়িয়া দুই ইউনিয়নের ৭কি:মি এলাকায় প্রবল ভাঙ্গনে কৃষিজমি, বাড়িঘর, সরকারী স্থাপনা, স্কুল মাদ্রাসা বিলিন হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগে একমাত্র মহাসড়কটিও চরম ঝুঁকিতে। এলাকা ভাঙ্গনের অন্যতম কারণ হিসেবে অবৈধ বালিঘাটকে চিহ্নিত করে আক্রান্তদের দাবি অবিলম্বে দীর্ঘদিনের এই ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মানের। সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে; অনুমোদন পেলে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে।


উপজেলার ২নং বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভুমি কর্মকর্তা মোস্তাক হোসেন জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের নদী ভাঙ্গনে ৯টি গ্রাম বিশিষ্ট ১৮ দশমিক ৮৬বর্গ কি:মি: আয়তনের ইউনিয়নটির ৩টি গ্রামসহ ১৮শ ৮৬ হেক্টর জমির মধ্যে অন্তত: সাড়ে ৪শ হেক্টর কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। রেকর্ডভুক্ত এসব জমির ভুমি করও আর এখন কেউ দেন না।

ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল রানার অভিযোগ, পদ্মার ভাঙ্গনে জায়গা জমি বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে এবারের ভাঙ্গনের জন্য প্রধানত: অবৈধ বালিঘাটকে দায়ি করছেন । তিনি বলেন, এখানে সরাসরি নদী থেকে পানি মিশ্রিত বালি নদীর মধ্যে থেকে ২শ বা ৩শ মিটার দূরে সমতল কৃষি জমিতে পাহাড় সমান উঁচু করে রাখছে। এই বালির পানি ভু-গর্ভস্থ হয়ে নদীতে যাচ্ছে; এরফলে নীচে গলন সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সমতল জমি ধ্বসে নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। এই অব্যহত নদী ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৭শ কৃষক পরিবার এখন ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীতে পরিনত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

৩নং তালবাড়িয়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভুমি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান তার ইউনিয়নের মৌজা ওয়ারী ম্যাপ ও রেকর্ড সূত্রের রবাত দিয়ে বলেন, বিগত ১০ বছরের নদী ভাঙ্গনে ১৪টি গ্রাম বিশিষ্ট ১৬দশমিক ২৬ বর্গ কি:মি: আয়তনের ইউনিয়নটির ৭টি গ্রামসহ ১৬শ ৪৫ হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে সাড়ে ৭শ হেক্টর আবাদি কৃষি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। সেই সাথে প্রায় এক হাজার কৃষক পরিবার সবকিছু হারিয়ে এখন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হয়েছেন।

মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের ঝর্না খাতুন বলেন, ২০ পূর্বে আমার বিয়ের সময় শ^শুড়বাড়ি ছিলো স্বচ্ছল কৃষি নির্ভর। কিন্তু এখন সবকিছু হারিয়ে নি:স্ব, কয়েকবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এবছর শেষ সম্বল মাথা গোজার ঘরটিও ভেঙ্গে গেলো। এক সময়ে স্বামী আমানত আলী কৃষি কাজ করলেও এখন সে ভ্যান চালিয়ে জীবন ধারণ করে। সর্বনাশা এই ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থায়ী বাঁধ নির্মানের দাবি তার।

৩নং তালবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিনের ভাঙ্গনে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ৩ভাগের দুইভাগ নদীগর্ভে চলে গেছে। সর্বশেষ এখন যেভাবে ভাঙ্গছে তাতে মিরপুর উপজেলার মানচিত্র থেকে খুব শীঘ্রই ৩নং তালবাড়ি ইউনিয়ন হারিয়ে যাবে। সেই সাথে কুষ্টিয়া-ঈশ^রদী-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কটিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। জরুরী ভিত্তিতে পদ্মার ভাঙ্গন থেকে রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি তার।

সরেজমিনে ভাঙ্গন প্রবন এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক জরুরী ভিত্তিতে অস্থায়ী ভাবে বালির বস্তা ফেলে ঠেকানোর চেষ্টা কাজের তদারকিরত শাখা কর্মকর্তা অসীম সরকার বলেন, এখানকার ভাঙ্গনের যে তীব্রতা তাতে আমরা জনবল লাগিয়ে যা ফেলছি তার সবই গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান বড় কোন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া।

বাপাউবো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, ঐখানে অবৈধ বালিঘাটের কারণে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশী, স্থানীয়দের দেয়া এই অভিযোগ অমুলক নয়। কারণ প্রবহমান নদীর নিকট তীরবর্তী সমতল ভুমিতে যে কোন ধরণের জলাধার থাকলে নদীর পানি স্তর নেমে সমতল ভুমির পানি স্তরের নীচে গেলেই উপরিস্থ পানি ভু-গর্ভস্থ হয়ে চিপসের মাধ্যমে নদীর পানি সাথে সংযুক্ত হয়। এসময় নদীর তলদেশে বিদ্যমান তীব্র ¯্রােতের আঘাতে স্পার্ক হয়। এতে নীচের দিকে দ্রæতগতিতে ভুমি ক্ষয়ে যাওয়ায় উপরের মাটিতেও ধ্বস নামে। নদীর পাড় ভাঙ্গার ক্ষেত্রে এটা অন্যতম একটা প্রধান কারন। সেকারণে বাপাউবো যখন ঐখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ করবে তখন বালিঘাট সরিয়ে নিতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। এবিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে কথাও হয়েছে বললেন এই প্রকৌশলী।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত ৭কি:মি: এলাকায় ভাঙ্গন রোধে ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ টিমের পরামর্শক্রমে প্রকল্প প্রনয়ন ও প্রেরণ করা হয়েছে। সেটা এখন প্রি-একনেক পর্যায়ে আছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। অনুমোদন পেলে এই ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, পদ্মার ভাঙ্গন রোধে প্রেরিত প্রকল্প অনুমোদন পেলে স্থায়ী ব্যবস্থা হবে। সেই সাথে ওই এলাকায় বালিঘাটের কারণে যদি ভাঙ্গনের তীব্রতা বেশী হয় এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com