নেত্রকোনা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুদন্ড

  • আপডেট : ০৩:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ২১৪

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া : 

কুষ্টিয়ায় কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যোক্তের প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর ভাইকে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার দায়ে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী জনাকীর্ণ আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন।

মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাতিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের খবির উদ্দিন সেখের ছেলে উজ্জল ইসলাম ওরফে উজ্জল শেখ (২৮)।

আদালত সূত্রে জানায়, ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রæয়ারী ভালোবাসা দিবসে সন্ধা সাড়ে ৬টায় প্রেম প্রত্যাশী সহপাঠী কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ছাত্র আসামী উজ্জল সহপাঠী ছাত্রীর কাছ থেকে একাধিকবার প্রত্যাখাত হয়েও ওই ছাত্রীর বাড়ি মিরপুর উপজেলার বালিয়াসিসা গ্রামে গিয়ে হাজির হন। সেখানে ছাত্রীর ভাই আব্দুল্লাহ বাড়ির ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয়।

এসময় আসামী উজ্জল কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে আব্দুল্লাহকে। তার চিৎকার শুনে মা সুফিয়া খাতুন ও চাচাত ভাই শাজাহান আলী ঠেকাতে গেলে তাদেরও ধারালো চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোক জড়ো হয়ে উজ্জলকে আকট করে পুলিশে সৌপর্দ করে।

এঘটনায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষনা করেন। এঘটনায় ১৫ ফেব্রæয়ারী মিরপুর থানায় নিহতের পিতা আসলাম শেখের করা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামী করা হয় উজ্জলকে। মামলাটি তদন্ত শেষে আসামী উজ্জলের বিরুদ্ধে দ:বি: ৪৪৭/৩২৪/৩০৭/৩০২ ধারায় অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ৩০জুন আদালতে চার্যশীট দাখিল করে পুলিশ।

কুষ্টিয়া জজ কোর্টের সরকারী কৌশুলী এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, সহপাঠী কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যোক্তের জেরে ছাত্রীর ভাইকে হত্যা মামলায় আসামী উজ্জলের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। মামলটির আসামী পক্ষের কৌশুলী ছিলেন এ্যাড. তানজিলুর রহমান এনাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

কুষ্টিয়ায় এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুদন্ড

আপডেট : ০৩:১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া : 

কুষ্টিয়ায় কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যোক্তের প্রতিবাদ করায় ছাত্রীর ভাইকে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার দায়ে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী জনাকীর্ণ আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষনা করেন।

মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাতিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের খবির উদ্দিন সেখের ছেলে উজ্জল ইসলাম ওরফে উজ্জল শেখ (২৮)।

আদালত সূত্রে জানায়, ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রæয়ারী ভালোবাসা দিবসে সন্ধা সাড়ে ৬টায় প্রেম প্রত্যাশী সহপাঠী কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ছাত্র আসামী উজ্জল সহপাঠী ছাত্রীর কাছ থেকে একাধিকবার প্রত্যাখাত হয়েও ওই ছাত্রীর বাড়ি মিরপুর উপজেলার বালিয়াসিসা গ্রামে গিয়ে হাজির হন। সেখানে ছাত্রীর ভাই আব্দুল্লাহ বাড়ির ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয়।

এসময় আসামী উজ্জল কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে আব্দুল্লাহকে। তার চিৎকার শুনে মা সুফিয়া খাতুন ও চাচাত ভাই শাজাহান আলী ঠেকাতে গেলে তাদেরও ধারালো চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আশপাশের লোক জড়ো হয়ে উজ্জলকে আকট করে পুলিশে সৌপর্দ করে।

এঘটনায় গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষনা করেন। এঘটনায় ১৫ ফেব্রæয়ারী মিরপুর থানায় নিহতের পিতা আসলাম শেখের করা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামী করা হয় উজ্জলকে। মামলাটি তদন্ত শেষে আসামী উজ্জলের বিরুদ্ধে দ:বি: ৪৪৭/৩২৪/৩০৭/৩০২ ধারায় অভিযোগ এনে ২০১৮ সালের ৩০জুন আদালতে চার্যশীট দাখিল করে পুলিশ।

কুষ্টিয়া জজ কোর্টের সরকারী কৌশুলী এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী জানান, সহপাঠী কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যোক্তের জেরে ছাত্রীর ভাইকে হত্যা মামলায় আসামী উজ্জলের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তাকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। মামলটির আসামী পক্ষের কৌশুলী ছিলেন এ্যাড. তানজিলুর রহমান এনাম।