বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় ইউপি সদস্যের সব পরিবারের নামে ভিজিডি কার্ড !

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া :  |  আপডেট ১২:৫১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২০ | প্রিন্ট  | 146

কুষ্টিয়ায় ইউপি সদস্যের সব পরিবারের নামে ভিজিডি কার্ড !

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দেশের তৃণমূল সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তার প্রকল্পের আওয়তায় দেয়া ভিজিডি ও ওএমএস কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী খাদ্য বন্টনে অনিয়ম, দুর্ণীতির বেহাল চিত্র বেড়িয়ে আসছে একের পর এক। দুস্থ্যদের এই চাল খোদ ইউপি সদস্য ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নামেই ইস্যুকৃত ভিজিডির কার্ড করে সরকারী চাল বিধিবহির্ভুত ভাবে ইউপি চেয়ারম্যান বিলি-বন্টন করে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত সুবিধা বঞ্চিত দুস্থ্যরা।

দৌলতপুর উপজেলার ৪নং মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলগীর বলেছেন, “এরা নিজেরাই সব দুস্থ্য গরীব, আমার ইউনিয়নের ম্যাক্সিমাম মেম্বাররাই গরীব” তাই এরা না বুঝে এসব কার্ড করেছেন। তাছাড়া বিধিসম্মত না হলে সরকারী অফিসাররাই বা কিভাবে এসব কার্ড দিয়েছেন বলে পাল্টা অভিযোগ এই ইউপি চেয়ারম্যনের।


এ বিষয়ে কিছুই জানেন না দৌলতপুর উপজেলা খাদ্য সহায়তা কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। তিনি বলেন এবিষয়ে যা কিছু জানতে চান মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। উনি ভালো বলতে পারবেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলছেন, ভিজিডি কার্ড ইস্যু ও বিতরণে কোন অনিয়ম হলে তার বিরুদ্ধে এই কমিটির সভাপতি ইউএনও স্যার অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৪নং মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (১, ২ ও ৩) নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য শারমিন সুলতানা নিজ নামে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ইস্যুকৃত ৬নং ভিজিডি কার্ডের অনুকুলে দেওয়া মাসিক ৩০ কেজি খাদ্যশস্যের (চাল) তুলছেন বলে স্বীকার করে বলেন, নিয়ম না থাকলেও আমার উপর চেয়ারম্যান সাহেবের একটু নেক নজর আছে তাই কোন সমস্যা হয়না। কিছু মেম্বাররা আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।

ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বৈরাগীরচর গ্রামের বাসিন্দা জামাল সরদার (৬০)র অভিযোগ, ২০১৭ সালে আমার নামে (ওএমএস) ১০ টাকা কেজি দরে চাউলের কার্ড ইস্যু হয়। কিন্তু সে কার্ড আজ অবধি হাতে পায়নি। আমাকে জানানোও হয়নি এই কার্ড সম্পর্কে। কয়েকদিন পূর্বে এলাকায় সেনা বাহিনীর লোক এসেছিলো খাদ্য সহায়তা দিতে। তাই দেখে ভয়ে মহিলা মেম্বার শারমিন সুলতানা আমার বাড়িতে এসে কার্ডটি পৌছে দেয়। কিন্তু ওই কার্ডে তিন বছর ধরে টিপ সই দিয়ে চাল তুলে খাইছে। আমি ওই কার্ড নিতে চাইনি তবুও শারমিন মেম্বার জোর বাড়িতে কার্ড রেখে যায়।

২ নং ওয়ার্ড ভুরাপাড়া গ্রামের জিয়ারুলের স্ত্রী মানছুরা খাতুনের অভিযোগ, ২০১৯ সালের জানুয়ারীতে আমার নামে ইস্যুকৃত ০৪নং ভিজিডি কার্ড হলেও তা হাতে পায়নি। গত ১৫ মাস ধরে প্রতি মাসে ৩০কেজি করে চাল ওঠানো হয়েছে তার নামীয় কার্ড থেকে। দুই বছর আগে মহিলা মেম্বার শারমিন সুলতানা ভিজিডির কার্ড করে দেয়ার কথা বলে আমার ছবি এবং ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়েছিলেন। এই কার্ডের জন্য বহুদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরলেও ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর জানান আমার নামে কোন কার্ড হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য জানায়, এখানে নিয়ম অনিয়ম যা কিছুই হোক না কেন ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজসেই হয়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সকল সদস্যই নিজ নামে বা পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ওএমএস ও ভিজিডি কার্ড ইস্যু করে সরকারী চাল নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাসির উদ্দীন তার নিজের স্ত্রী, মা, বোনসহ নিকট আত্মীয়দের নামে ভিজিডি ওএমএস এর কার্ড করেছেন স্বীকার করে বলেন, এসব কার্ড যখন আসে তখন চেয়ারম্যান সাহেব আমাদের সবার মাঝে ভাগ করে দেন।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ-আলমগীর বলেন, ইউপি সদস্যের নামে ভিজিডির কার্ড করা যাবে কিনা সেটা আমার জানা ছিলো না। অনেক মেম্বারই না বুঝে এমনটি করেছে। তাছাড়া নিয়ম না থাকলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসব কার্ড অনুমোদন দিলেন কিভাবে ? এমন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন এই চেয়ারম্যান। এভাবে দেখলে আমার ইউনিয়নের প্রায় সব সদস্যই কোন না কোন ভাবে সরকারী এসব নানা সুবিধা নিচ্ছেন। আবার মেম্বাররা একে অন্যের বিরুদ্ধে কাদা ছুড়াছুড়ি করছে।

দৌলতপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরাত জাহান জানান, কোনো জনপ্রতিনিধি অথবা সরকারি কর্মচারীর নিজ নামে ভিজিডিসহ এ ধরনের কার্ড ইস্যু করার নিয়ম নেই। অসচ্ছল হলেও এটি আইনসম্মত নয়। এমন নিয়ম বহির্ভুত কিছু হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানাও নেই বলারও নেই। আপনারা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। যদি কোন অনিয়ম করে এবং তা প্রমানিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com