নেত্রকোনা ০২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কলমাকান্দায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার চেম্বার ভাংচুর, আহত-১

  • আপডেট : ১২:১৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯
  • ১৩০৩ বার পঠিত

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন, নেত্রকোনা :

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে অসদাচরণের জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যক্তিগত চেম্বার ভাংচুর হয়েছে। যুবলীগ সমর্থক সেলিমকে পিটিয়ে আহত করেছে চন্দন বিশ্বাসের সমর্থকরা। গুরুতর আহত সেলিমকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার কলমাকান্দা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ বিশ্বাসের সাথে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় যুবলীগ সমর্থক উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমসহ কয়েক যুবকের ঝগড়া হয়।

এ নিয়ে পলাশ বিশ্বাসকে তারা মারধর করে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর পলাশ বিশ্বাস বাদী হয়ে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কলমাকান্দা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক ছাত্রনেতা জালাল উদ্দিন রুমীর ছেলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি ইমতিয়াজ রিব্বি, কলমাকান্দা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের ভাতিজা জামান মিয়া ও যুবলীগ সমর্থক উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিমের বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন।

পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। বুধবার ইমতিয়াজ রিব্বি ও জামান মিয়া, সেলিম মিয়া জামিনে ছাড়া পায়।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবে চন্দন বিশ্বাস স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বসে আলাপ করছিলেন। এ সময় ইমতিয়াজ রিব্বি ও জামান মিয়া সাংবাদিকদের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

পরে চন্দন বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কলমাকান্দা বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজিত লোকজন সেলিম মিয়ার ওপর চড়াও হয়। এ সময় সেলিম দৌড়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যবসায়িক চেম্বারে আশ্রয় নেয়। চন্দন বিশ্বাসের ভাই তমু বিশ্বাসের নেতৃত্বে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা সেখানে তাকে বেধরক মারপিট করে।

এ সময় এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যবসায়িক চেম্বার ভাংচুর করা হয়। গুরুতর আহত সেলিমকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা সদরে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কলমাকান্দা উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ রিব্বি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পলাশ বিশ্বাসের সাথে কি হয়েছে আমার জানা নেই। ওই সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। আমাকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।

কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে তার মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মাজহারুল করিম বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

কলমাকান্দায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার চেম্বার ভাংচুর, আহত-১

আপডেট : ১২:১৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

কে. এম. সাখাওয়াত হোসেন, নেত্রকোনা :

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে অসদাচরণের জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যক্তিগত চেম্বার ভাংচুর হয়েছে। যুবলীগ সমর্থক সেলিমকে পিটিয়ে আহত করেছে চন্দন বিশ্বাসের সমর্থকরা। গুরুতর আহত সেলিমকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জেলার কলমাকান্দা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ বিশ্বাসের সাথে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় যুবলীগ সমর্থক উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমসহ কয়েক যুবকের ঝগড়া হয়।

এ নিয়ে পলাশ বিশ্বাসকে তারা মারধর করে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর পলাশ বিশ্বাস বাদী হয়ে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কলমাকান্দা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক ছাত্রনেতা জালাল উদ্দিন রুমীর ছেলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি ইমতিয়াজ রিব্বি, কলমাকান্দা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের ভাতিজা জামান মিয়া ও যুবলীগ সমর্থক উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিমের বিরুদ্ধে কলমাকান্দা থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেন।

পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। বুধবার ইমতিয়াজ রিব্বি ও জামান মিয়া, সেলিম মিয়া জামিনে ছাড়া পায়।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবে চন্দন বিশ্বাস স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বসে আলাপ করছিলেন। এ সময় ইমতিয়াজ রিব্বি ও জামান মিয়া সাংবাদিকদের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

পরে চন্দন বিশ্বাসের সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কলমাকান্দা বাজারে উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজিত লোকজন সেলিম মিয়ার ওপর চড়াও হয়। এ সময় সেলিম দৌড়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যবসায়িক চেম্বারে আশ্রয় নেয়। চন্দন বিশ্বাসের ভাই তমু বিশ্বাসের নেতৃত্বে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা সেখানে তাকে বেধরক মারপিট করে।

এ সময় এরশাদুর রহমান মিন্টুর ব্যবসায়িক চেম্বার ভাংচুর করা হয়। গুরুতর আহত সেলিমকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা সদরে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

কলমাকান্দা উপজেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ইমতিয়াজ রিব্বি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পলাশ বিশ্বাসের সাথে কি হয়েছে আমার জানা নেই। ওই সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। আমাকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।

কলমাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে তার মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মাজহারুল করিম বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চন্দন বিশ্বাসের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি বলে তিনি জানান।