নেত্রকোনা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চেয়ে গৌরীপুরে সরকারি কর্মচারীদের মানববন্ধন

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চেয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা রবিবার (৫ জানুয়ারী) উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা বরাবরে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) বিকেলে অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর (৪১) পিআইও অফিসের অফিস সহকারি আব্দুল করিমকে বিনা দোষে নিজ অফিস কক্ষে লাঞ্চিত করেন। এর আগে গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর পিআইও অফিসের উপসহকারি প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেনকে বিনা কারনে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে মুছলেখা দিয়ে ছাড় পান।

একই বছরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় শহিদুলের বিরুদ্ধে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের হুমকীর মুখে চরম আতংকের মধ্যে অফিস করতে হচ্ছে এ উপজেলার সরকারি কর্মচারীদের। তাই কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী পিআইও অফিসের অফিস সহকারি আব্দুল করিম জানান, ঘটনারদিন ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অফিস কক্ষে এসে আমার কাছে সরকারি কম্বল চান। এসময় তিনি বলেন, সরকারি কম্বল দেয়ার কোন ক্ষমতা আমার নেই। এ কথা বলতেই, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন ইউপি চেয়ারম্যান।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৌরীপুর থানার মামলা নং-০৫ তাং-০৩/০১/২০২০ ইং।

এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২
জনপ্রিয়

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চেয়ে গৌরীপুরে সরকারি কর্মচারীদের মানববন্ধন

আপডেট : ০৫:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২০

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চেয়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা রবিবার (৫ জানুয়ারী) উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধন শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা বরাবরে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) বিকেলে অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর (৪১) পিআইও অফিসের অফিস সহকারি আব্দুল করিমকে বিনা দোষে নিজ অফিস কক্ষে লাঞ্চিত করেন। এর আগে গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তর পিআইও অফিসের উপসহকারি প্রকৌশলী মাজহারুল ইসলাম ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেনকে বিনা কারনে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে মুছলেখা দিয়ে ছাড় পান।

একই বছরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় শহিদুলের বিরুদ্ধে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের হুমকীর মুখে চরম আতংকের মধ্যে অফিস করতে হচ্ছে এ উপজেলার সরকারি কর্মচারীদের। তাই কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী পিআইও অফিসের অফিস সহকারি আব্দুল করিম জানান, ঘটনারদিন ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অফিস কক্ষে এসে আমার কাছে সরকারি কম্বল চান। এসময় তিনি বলেন, সরকারি কম্বল দেয়ার কোন ক্ষমতা আমার নেই। এ কথা বলতেই, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন ইউপি চেয়ারম্যান।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৌরীপুর থানার মামলা নং-০৫ তাং-০৩/০১/২০২০ ইং।

এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে কল করা হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।