বুধবার ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনাকালীন ভ্রাম্যমাণ বেদে গোষ্ঠীর অসহায় জীবনযাপন

 |  আপডেট ১২:০৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট  | 44

করোনাকালীন ভ্রাম্যমাণ বেদে গোষ্ঠীর অসহায় জীবনযাপন

সোলেমান আহমেদ মানিক, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অস্থায়ীভাবে বসতি ঘরে বসবাস করছে একদল রহস্যময় মানুষ। এরা মূলত আমাদের দেশে বাদিয়া বা বাইদ্যা নামে পরিচিত একটি ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠী। যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়ায় এখানে-ওখানে ওরা। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দেখা যায় এদের।

দেশে দেশে বা অঞ্চলভেদে তাদের একেক নাম, আর বেঁচে থাকার জন্য বিচিত্রসব পেশা। নর-নারী, শিশুর অদ্ভুত তাদের চেহারা, অদ্ভুত তাদের কথাবার্তা। বেদে মানে ভ্রমণশীল বা ভবঘুরে।


শ্রীমঙ্গল উপজেলার দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেল লাইনের পাশে অস্থায়ী বসতরত বেদেদের মধ্যে কেউ সুনামগঞ্জ, ঢাকা সাভার, ছাতক, কেউ বা কুমিল্লা থেকে এসেছে। বসবাসরত ২৬ টি বেদে পরিবার আছে। এই ২৬টি পরিবারে ১২৫ জন সদস্য আছে। তবে, করোনাকালীন সময়ে বেদে গোষ্ঠীর আয় রোজগার না থাকায় অনেক কষ্টে জীবনযাপন পার করছে।

এমনকি বেদে সম্প্রদায়ের ২৬টি পরিবার বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি ছাউনী বানিয়ে বসবাস করছে। সেখানেই তারা তাদের বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে ঠাসাঠাসী করে বসবাস করছে। নেই স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই। তবে, বেদেরা সমাজের বিভিন্ন জনের দিকে তাকিয়ে আছে কিছু সাহায্যর পাবার আশায়।

বেদে নারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের মানুষ এখন আর সাপ খেলা দেখতে চায়না। নেয়না ওদের চিকিৎসাও। কাউকে সাপে কাটলে এখন আর ডাক পড়ে না বেদেদের। আগের মতো ব্যবসা এখন আর হয় না। প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে বেদে সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

আরো জানায়, এক সময় শুধুই নারীরা সাপ খেলা দেখিয়ে বা কবিরাজি করে অর্থ উপার্জন করতো। কিন্তু বর্তমানে নারী-পুরুষ উভয়েই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরেও আগের মতো উপার্জন করতে পারে না। এছাড়াও আগের মত এখন আর সাপ পাওয়া যায় না। আমাদের চিকিৎসাও গ্রাম্য লোকজন আগের মত নেয় না।

বেদে মো. শরীফ উদ্দিন ডেইলি অবজারভারকে বলেন, আমরা সাপুড়িয়া মানুষ। আমাদের বাব দাদা চৌদ্দ পুরুষ সাপ খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমাদের মা বোনেরা সাপের খেলা দেখিয়ে চাল, টাকা পয়সা নিয়ে আসে। আমরাও আমাদের বাব দাদার ব্যবসায় নিয়োজিত। আমরা গরীব অসহায় মানুষ। আজকে লকডাউন থাকায়, আমাদের ইনকাম বন্ধু হয়ে গেছে।

আমরা ৪/৫ দিন ধরে খুব অসহায় অবস্থায় আছি। আমাদের খাওয়া দাওয়ায় অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা বাজারে উঠতে পারি না, উঠলে তাড়িয়ে দেয়, গ্রামেও যেতে পারছি না। এক গ্লাস পানি খাওয়ার জন্য চাইতে গেলেও মানুষ দেয় না! আমরা সরকারের অপেক্ষায় আছি, সরকার যদি আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করে তাহলে আমরা খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবো।

সংবাদকর্মীদের সাথে আলাপকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেললাইন এর পাশে অস্থায়ী অবস্থানরত বেদে সম্প্রদায়ের পলিথিনের তৈরি অস্থায়ী কুঁড়ের ২৬ টি পরিবারের সর্দার মো. তোফাজ্জল হোসেন এর বক্তব্যে তাই হতাশার সুর। সর্দার বলেন, লকডাউনের জন্য অনেকে ব্যাবসায় যেতে পারছে না। ব্যবসা বানিজ্য করতে পারছে না।

খাওয়া দাওয়ার অসুবিধে হচ্ছে। এখন সাপের খেলা দেখাইতে গেলে, ঝাঁড়ফুঁক দিতে গেলে মানুষে বিভিন্ন মন্তব্য করে। করোনার কারণে এখন আমাদের ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ, আমরা বাজারহাটে উঠতে পারছি না। গ্রাম গঞ্জে যেতে পারছি না। এসব কি আমাদের অপরাধ না কি? আমরা বেদে সমাজ গরীব হওয়া কি অপরাধ?

বর্তমানে আমরা এক প্রকার ভিক্ষা করেই দিন কাটাচ্ছি। গ্রাম-গঞ্জের বাড়িত বাড়িতে গিয়ে ভিক্ষুকের মতো চাই। কেউ দেয় চাল, তো কেউ নগদ টাকা দিয়ে থাকে। যা দিয়ে আমাদের পেট চলে। এর মধ্যে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় জড়িত হয়েছে। আর যারা আমরা ধরে আছি, তারা শুধু জাতগত পেশাকে সম্মান জানাই বলে। জাতগত ব্যবসা ধরে রাখতেই দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াই। তবে এর মধ্যেও অনেকে এই পেশা ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম করছে। সরকার সহযোগিতা না করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এদেশ থেকে হারিয়ে যাবে বেদে সম্প্রদায়।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com