নেত্রকোনা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে সরকারি ধান ক্রয়ের নামে বাণিজ্য ; দিশে হারা প্রান্তিক কৃষক

  • আপডেট : ১২:১৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৯
  • ৩২০
নাঈম আলী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা ও সময়সীমা থাকার পরও তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে খাদ্য গুদামে ব্যবসায়ীদের ধান গ্রহন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও খাদ্য গোদাম কর্তৃপক্ষ মিলিতভাবেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহনে অনিয়মের করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান কিনছেন বলে বঞ্চিত কৃষক ও ইউপি চেয়ারম্যান এ অভিযোগ করেছেন। খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ ও কৃষি কর্মকর্তা অনিয়ম করেননি বলে দায়সারা জবাব দিয়েছেন। এছাড়া প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা তাদের ধান বিক্রি করতে পারছে না। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষক উত্তরভাগ গ্রামের সানুর মিয়া, উত্তর ভানুবিল গ্রামের সুরেন্দ্র সরকার, ভানুবিল গ্রামের মাছিম আলী, মধ্যভাগ গ্রামের আজিজ খান ও কোণাগাঁওয়ের সেলিম রাজা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সরকারি গোদামে ধান বিক্রির জন্য তাদের ১৮ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তারা ১৮জন কৃষক ১৮ মে:টন ধান খাদৗ গুদামে বিক্রি করার কথা। তালিকা অনুযায়ী ১৮ জন আদমপুর ইউনিয়ন থেকে গেলে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ খাদ্য গুদান কর্র্তৃপক্ষ এ তালিকা থেকে ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়া, ভানুবিল গ্রামের মুসলিম আলী ও আধকানী গ্রামের শাহাবুদ্দীনসহ মোট ১০ জনের কাছ থেকে ১০৪০ টাকা মন দরে ধান ক্রয় করেন।
আর ৮জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কৃষকরা আরও বলেন, ফিরিয়ে দেওয়া ৮ জন কৃষকের বদলে নগদ সুবিধা গ্রহন করে ৮জন ব্যবসায়ীর কাজ থেকে ধান গ্রহন করা হয়েছে। আদমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, এবার সারা উপজেলা থেকে ১৭৮ মে:টন ধান কেনার টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে আদমপুর ইউনিয়ন থেকে ১৮ মে:টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গত ১০ জুলাই তাকে (চেয়ারম্যানকে) পত্র দিয়ে কৃষকের তালিকা দিয়ে ধান জমার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি প্রকৃত কৃষকের তালিকা করে মোট ১৮ জনের নাম উপজেলা কৃষি অফিসে পাঠিয়েছিলেন ১৮ জুলাই।
ধান ক্রয়ের সর্বশেষ তারিখ ছিল ৩১ আগষ্ট। তালিকাভুক্ত কৃষকরা ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই ধান নিয়ে ভানুগাছ খাদ্য গুদামে গেলে ১৮ জনের মাঝ থেকে ১০ জনের ধান গ্রহন করে বাকি ৮জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন আরও বলেন, একটি সিন্ডিকেট করে কৃষি বিভাগ ও খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ তার ইউনিয়ন থেকে ৮ মে:টন ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন ও আগামী সমন্বয় সভায়ও উপস্থাপন করবেন বলে জানান।
ভানুগাছ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবিতা রানী দেব বলেন, আদমপুরের তালিকাভুক্ত কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছিল। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে কৃষকরা আগে আসবে তাদের ধান গ্রহন করা হবে। সে হিসেবে আদমপুরের পিছিয়ে পড়া ৮ জন কৃষকের স্থলে তালিকাভুক্ত আরও ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ৮ মে:টন ধান কেনা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। সময়সীমা ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত থাকলেও কেন তড়িঘড়ি করে আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ৮ জন কৃষকের ধান গ্রহন না করে নতুন করে চেয়ারম্যানের তালিকার বাইরের ৮জনের কাছ থেকে ধান কেনা হল ? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেনি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ধান ক্রয়ে কোন অনিয়ম হয়নি। তিনি দায়সারাভাবে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ধান গ্রহণের শেষ মেয়াদ ছিল ৩১ জুলাই। আদমপুরের কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছে দেখে বাদ পড়া ৮ জনের স্থলে নতুন করে ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই পরপর ৩ দিন খাদ্য গুদামে গেলে কেনো তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো প্রশ্ন করা হলে কৃষি কর্মকর্তা সঠিক জবাব দিতে পারেননি।
কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে তিনি কথা বলবেন বলেও জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

আমি মো. শফিকুল আলম শাহীন। আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক । আমি পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, অনলাইন রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমাদের প্রকাশনা “পূর্বকন্ঠ” স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব।

কমলগঞ্জে সরকারি ধান ক্রয়ের নামে বাণিজ্য ; দিশে হারা প্রান্তিক কৃষক

আপডেট : ১২:১৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৯
নাঈম আলী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা ও সময়সীমা থাকার পরও তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে খাদ্য গুদামে ব্যবসায়ীদের ধান গ্রহন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও খাদ্য গোদাম কর্তৃপক্ষ মিলিতভাবেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহনে অনিয়মের করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান কিনছেন বলে বঞ্চিত কৃষক ও ইউপি চেয়ারম্যান এ অভিযোগ করেছেন। খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ ও কৃষি কর্মকর্তা অনিয়ম করেননি বলে দায়সারা জবাব দিয়েছেন। এছাড়া প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা তাদের ধান বিক্রি করতে পারছে না। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষক উত্তরভাগ গ্রামের সানুর মিয়া, উত্তর ভানুবিল গ্রামের সুরেন্দ্র সরকার, ভানুবিল গ্রামের মাছিম আলী, মধ্যভাগ গ্রামের আজিজ খান ও কোণাগাঁওয়ের সেলিম রাজা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সরকারি গোদামে ধান বিক্রির জন্য তাদের ১৮ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তারা ১৮জন কৃষক ১৮ মে:টন ধান খাদৗ গুদামে বিক্রি করার কথা। তালিকা অনুযায়ী ১৮ জন আদমপুর ইউনিয়ন থেকে গেলে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ খাদ্য গুদান কর্র্তৃপক্ষ এ তালিকা থেকে ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়া, ভানুবিল গ্রামের মুসলিম আলী ও আধকানী গ্রামের শাহাবুদ্দীনসহ মোট ১০ জনের কাছ থেকে ১০৪০ টাকা মন দরে ধান ক্রয় করেন।
আর ৮জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কৃষকরা আরও বলেন, ফিরিয়ে দেওয়া ৮ জন কৃষকের বদলে নগদ সুবিধা গ্রহন করে ৮জন ব্যবসায়ীর কাজ থেকে ধান গ্রহন করা হয়েছে। আদমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, এবার সারা উপজেলা থেকে ১৭৮ মে:টন ধান কেনার টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে আদমপুর ইউনিয়ন থেকে ১৮ মে:টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গত ১০ জুলাই তাকে (চেয়ারম্যানকে) পত্র দিয়ে কৃষকের তালিকা দিয়ে ধান জমার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি প্রকৃত কৃষকের তালিকা করে মোট ১৮ জনের নাম উপজেলা কৃষি অফিসে পাঠিয়েছিলেন ১৮ জুলাই।
ধান ক্রয়ের সর্বশেষ তারিখ ছিল ৩১ আগষ্ট। তালিকাভুক্ত কৃষকরা ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই ধান নিয়ে ভানুগাছ খাদ্য গুদামে গেলে ১৮ জনের মাঝ থেকে ১০ জনের ধান গ্রহন করে বাকি ৮জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন আরও বলেন, একটি সিন্ডিকেট করে কৃষি বিভাগ ও খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ তার ইউনিয়ন থেকে ৮ মে:টন ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন ও আগামী সমন্বয় সভায়ও উপস্থাপন করবেন বলে জানান।
ভানুগাছ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবিতা রানী দেব বলেন, আদমপুরের তালিকাভুক্ত কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছিল। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে কৃষকরা আগে আসবে তাদের ধান গ্রহন করা হবে। সে হিসেবে আদমপুরের পিছিয়ে পড়া ৮ জন কৃষকের স্থলে তালিকাভুক্ত আরও ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ৮ মে:টন ধান কেনা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। সময়সীমা ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত থাকলেও কেন তড়িঘড়ি করে আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ৮ জন কৃষকের ধান গ্রহন না করে নতুন করে চেয়ারম্যানের তালিকার বাইরের ৮জনের কাছ থেকে ধান কেনা হল ? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেনি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ধান ক্রয়ে কোন অনিয়ম হয়নি। তিনি দায়সারাভাবে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ধান গ্রহণের শেষ মেয়াদ ছিল ৩১ জুলাই। আদমপুরের কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছে দেখে বাদ পড়া ৮ জনের স্থলে নতুন করে ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই পরপর ৩ দিন খাদ্য গুদামে গেলে কেনো তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো প্রশ্ন করা হলে কৃষি কর্মকর্তা সঠিক জবাব দিতে পারেননি।
কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে তিনি কথা বলবেন বলেও জানান।