রবিবার ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে সরকারি ধান ক্রয়ের নামে বাণিজ্য ; দিশে হারা প্রান্তিক কৃষক

 |  আপডেট ১২:১৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯ | প্রিন্ট  | 302

কমলগঞ্জে সরকারি ধান ক্রয়ের নামে বাণিজ্য ; দিশে হারা প্রান্তিক কৃষক
নাঈম আলী, কমলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার কথা ও সময়সীমা থাকার পরও তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে খাদ্য গুদামে ব্যবসায়ীদের ধান গ্রহন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও খাদ্য গোদাম কর্তৃপক্ষ মিলিতভাবেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহনে অনিয়মের করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান কিনছেন বলে বঞ্চিত কৃষক ও ইউপি চেয়ারম্যান এ অভিযোগ করেছেন। খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ ও কৃষি কর্মকর্তা অনিয়ম করেননি বলে দায়সারা জবাব দিয়েছেন। এছাড়া প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে। যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা তাদের ধান বিক্রি করতে পারছে না। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কৃষক উত্তরভাগ গ্রামের সানুর মিয়া, উত্তর ভানুবিল গ্রামের সুরেন্দ্র সরকার, ভানুবিল গ্রামের মাছিম আলী, মধ্যভাগ গ্রামের আজিজ খান ও কোণাগাঁওয়ের সেলিম রাজা অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সরকারি গোদামে ধান বিক্রির জন্য তাদের ১৮ জনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তারা ১৮জন কৃষক ১৮ মে:টন ধান খাদৗ গুদামে বিক্রি করার কথা। তালিকা অনুযায়ী ১৮ জন আদমপুর ইউনিয়ন থেকে গেলে কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ খাদ্য গুদান কর্র্তৃপক্ষ এ তালিকা থেকে ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়া, ভানুবিল গ্রামের মুসলিম আলী ও আধকানী গ্রামের শাহাবুদ্দীনসহ মোট ১০ জনের কাছ থেকে ১০৪০ টাকা মন দরে ধান ক্রয় করেন।
আর ৮জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কৃষকরা আরও বলেন, ফিরিয়ে দেওয়া ৮ জন কৃষকের বদলে নগদ সুবিধা গ্রহন করে ৮জন ব্যবসায়ীর কাজ থেকে ধান গ্রহন করা হয়েছে। আদমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, এবার সারা উপজেলা থেকে ১৭৮ মে:টন ধান কেনার টার্গেট দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে আদমপুর ইউনিয়ন থেকে ১৮ মে:টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গত ১০ জুলাই তাকে (চেয়ারম্যানকে) পত্র দিয়ে কৃষকের তালিকা দিয়ে ধান জমার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি প্রকৃত কৃষকের তালিকা করে মোট ১৮ জনের নাম উপজেলা কৃষি অফিসে পাঠিয়েছিলেন ১৮ জুলাই।
ধান ক্রয়ের সর্বশেষ তারিখ ছিল ৩১ আগষ্ট। তালিকাভুক্ত কৃষকরা ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই ধান নিয়ে ভানুগাছ খাদ্য গুদামে গেলে ১৮ জনের মাঝ থেকে ১০ জনের ধান গ্রহন করে বাকি ৮জনকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন আরও বলেন, একটি সিন্ডিকেট করে কৃষি বিভাগ ও খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ তার ইউনিয়ন থেকে ৮ মে:টন ধান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলবেন ও আগামী সমন্বয় সভায়ও উপস্থাপন করবেন বলে জানান।
ভানুগাছ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সবিতা রানী দেব বলেন, আদমপুরের তালিকাভুক্ত কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছিল। খাদ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে কৃষকরা আগে আসবে তাদের ধান গ্রহন করা হবে। সে হিসেবে আদমপুরের পিছিয়ে পড়া ৮ জন কৃষকের স্থলে তালিকাভুক্ত আরও ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ৮ মে:টন ধান কেনা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি। সময়সীমা ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত থাকলেও কেন তড়িঘড়ি করে আদমপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ৮ জন কৃষকের ধান গ্রহন না করে নতুন করে চেয়ারম্যানের তালিকার বাইরের ৮জনের কাছ থেকে ধান কেনা হল ? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেনি খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ সম্পর্কে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ধান ক্রয়ে কোন অনিয়ম হয়নি। তিনি দায়সারাভাবে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ধান গ্রহণের শেষ মেয়াদ ছিল ৩১ জুলাই। আদমপুরের কৃষকরা ধান জমা করতে বিলম্ব করছে দেখে বাদ পড়া ৮ জনের স্থলে নতুন করে ৮ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে। কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই পরপর ৩ দিন খাদ্য গুদামে গেলে কেনো তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হলো প্রশ্ন করা হলে কৃষি কর্মকর্তা সঠিক জবাব দিতে পারেননি।
কমলগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে তিনি কথা বলবেন বলেও জানান।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com