বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

কবিতার কলকব্জা

আকিব শিকদার :  |  আপডেট ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  | 94

কবিতার কলকব্জা

কবিতা কী ? অনেকের মতে, কবিতার কোনও সংজ্ঞা হয় না। তবু বলতে চাই, কবিতা হচ্ছে ছন্দ আশ্রিত বাক্যে অলংকার মিশ্রিত চিত্রকল্পে সাজানো এক বা একগুচ্ছ পংক্তিমালা। একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটকে বা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রূপকধর্মীতা ও নান্দনিকতা সহযোগে কবিতা রচিত হয়। একজন কবি তাঁর রচিত ও সৃষ্ট মৌলিক কবিতাকে লিখিত বা অলিখিত উভয় ভাবেই প্রকাশ করতে পারেন।

হয় অনেক কিছু জড়িয়ে, না-হয় একটা কিছু ছড়িয়েÑ কবিরা সাধারণত এই দুই ধারায় লিখেন । কেউ তাঁর চারপাশের নানা বিষয় জড়ো করে থরে থরে সাজিয়ে লিখছেন, আবার কেউ হয়তো এক বা দুটো বিষয় নিয়ে লিখছেন তুমুল তুড়জোড়ে। তবে কবিতার ভালোমন্দ নির্ভর করে ভেতরবস্তু কতটা সুন্দর এবং উপস্থাপন কতটা সমৃদ্ধ তার ওপর। অনেক কঠিন কথাও সহজ করে বলা যায়, কিন্তু অনেকেই সহজ কথাকে কঠিন করে বলতে অভ্যস্ত। ভাষার ওপর ভালো দখল ছাড়া মনের ভাব ভালোভাবে পরিস্ফুট হয় না; ফলে মনোমুগ্ধকর কবিতাও হয় না।


কেবল পংক্তিতে পংক্তিতে অন্ত্যমিল দিলে কিংবা গদ্যভাষায় আবেগ জড়িয়ে কবিতার আকারে সাজালেই তা কবিতা নয়। ভালো কবিতায় চিত্রকল্প, ছন্দ, অলংকার, পরিচ্ছন্ন ভাব বিন্ন্যস্ত থাকে, শিরায় প্রবাহিত রক্তের মতো এক ধরনের যোগসূত্রের সুর থাকে। কবি কল্পনার মিশেলে তাঁর কবিতায় শব্দমালা দিয়ে যে-সব ছবি আঁকেন সে-গুলোই হচ্ছে চিত্রকল্প। কারো কারো মতে, চিত্রকল্পই কবিতা। আবার অনেকে মনে করেন, এটি কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা থাকলে কবিতা জীবন্ত হয়ে উঠে এবং মানুষের মনে সহজেই দাগ কাটে। তবে কবিতার শ্রী বৃদ্ধি করতে গিয়ে উপমার মাত্রাতিরিক্ত যানজট সৃষ্টি না করাই শ্রেয়।
শব্দ সাজাবার কৌশল মস্তিষ্কসঞ্জাত। কিন্তু আবেগ হৃদয়জাত। কবিতা নির্মাণে হৃদয় ও মস্তিষ্ক দুটোই কাজ করে বলে কবিতাকে বলা যায়, আবেগের বৌদ্ধিক প্রকাশ। কবিতা হলো মুখনিশৃত আওয়াজের বা শাব্দিক চিৎকারের লিখিত রুপ।

সব পদ্য যেমন কবিতা নয়, আবার সব কবিতাও পদ্য নয়। পদ্যের পরিচয় শুধু অন্ত্যমিলে। পদ্য তখনই কবিতা হয়ে ওঠে যখন তাতে ভাব, আবেগ, রস ও সৌন্দর্য উপস্তিত থাকে। সুচয়িত শব্দাবলীতে গঠিত ভাষা, অলঙ্কার, চিত্রকল্প- এসবের মিশ্রণে গড়ে ওঠে স্বার্থক কবিতা।

অনেকে মনে করে ছড়া আর কবিতা একই জিনিস। না। ছড়াতে সাধারণত গভীর ভাব থাকে না। ছড়াতে শিশুতোষ, সামাজিক, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিষয়ের সরাসরি বক্তব্যই প্রকাশ পায়। কখনো কখনো চিত্রকল্পের কারণে একটি কবিতাকে এক এক পাঠক এক এক ভাবে অনুভব করেন, আর সে অনুভব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কবির অনুভব থেকে ব্যতিক্রম হয়ে যায়। কবিতার দুর্বোধ্য রহস্য উদঘাটন করার বোদ্ধা পাঠক খুব নগন্য। কর্ম ব্যস্ত জীবনে মানুষ শান্তির জন্য নাটক গল্প, সংবাদ ইত্যাদি থেকে বিনোদন গ্রহণ করে, আধুনিক কবিতায় সে বিনোদন কম পাওয়া যায়। কবিদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক কবির সল্প সংখ্যক কবিতাই লেখার গতিময়তার কারণে পঠন উপভোগ্য হয়, আর বেশিরভাগের কবিতাকে মনে হয় কংক্রিটের আবরণে আটকে থাকা চিনা বাদাম। তার বাস্তবতা কবিতার জগতে কবিদের সংখ্যা যত বেশি পাঠকের সংখ্যা তাদের চেয়ে অনেক কম।
প্রযুক্তি পৃথিবীকে ছোট করেছে, বেড়েছে মানুষের কাজের পরিধি। মানুষ এখন অল্পের মাঝে অধিক কিছু প্রাপ্তির আশা করে। সেই বিবেচনায়, কবিতা আজকের যুগের মানুষের জন্য একটি উপযুক্ত প্রকরণ।

পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষই স্বকীয়, কারো সাথে অন্য কারোরই কোনোই সাদৃশ্য নেই। সাদৃশ্য নেই লৌকিকতায়, নেই আভ্যন্তরীনও। সেইহেতু- স্বতন্ত্র মন, সকল সফল কবিরই নিজস্বতা আছে, খুব সূ² হলেও আছে। আবেগদীপ্ত কবিমন ছাড়া কবি হওয়া যায় না। কবি সেই ব্যক্তি, যিনি কবিত্ব শক্তির অধিকারী এবং কবিতা রচনাকারী। সাধনার দীপ্রতার ওপর কবির কবিতার গুণাগুণ নির্ভর করে। লেখার পরিমাণ দিয়ে নয়, গুণগত দিকের নিরিখে প্রত্যেক লেখককে মূল্যায়ন করা হয়।
যে লেখা পাঠককে ভাবায় না বা কোন চিত্র কল্পনার চোখে ভেসে উঠে না, তাতে আর যাই থাক প্রাণ থাকে না। কবিতা কবির নিজ হৃদয়ের শিল্প, কিন্তু তা অন্য হৃদয়ে স ারিত হয়। আমার মনেহয় কবিতা সেটাই, যা মানুষের হৃদয়কে আকৃষ্ট করে। কবিতা হলো হৃদয়ের শ্লোগান।

যে কবিতার অর্থ সেই কবি ছাড়া আর কেউ বুঝবেন না সেটাকে কবিতা বলতে আমার আপত্তি আছে। কবিতা কোনো বার্তা দেয় কি-না সেটাও দেখা উচিৎ। আমি মনেকরি, কবিতা থেকে তার অন্তর্নিহিত পাঠোদ্ধার করতে গিয়ে পাঠককে গলদঘর্ম হতে হলে সেটি কবিতা নামের কলঙ্ক। কবিতাকে হতেহবে স্বচ্ছ, পাঠ করলেই যেন চোখের সামনে সব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
কবিতা হোক ষোড়শী নারীর মতো আকর্ষণীয়, তেজস্বী পুরুষের মতো যৌবনময়। কলম হোক পাঠক সৃষ্টির হাতিয়ার, পাঠক তাড়াবার নয়। কবির কলমই শান্তির অমিয় বাণী ঝরাবে, সমাজের অনাচার ও হিংসা দূর করবে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা প্রশমিত করবে এবং মানুষে মানুষে জাতিতে জাতিতে বন্ধুত্ব ও সমঝোতা এনে দেবে।

আকিব শিকদার
শিকদার নিবাস
৮৪২/২ ফিসারি লিংক রোড
হারুয়া, কিশোরগঞ্জ।
Email : akibshikder333@gmail.com
Mobile : 01919848888

রচিত বই :
কাব্য গ্রন্থ : কবির বিধ্বস্ত কঙ্কাল (২০১৪), দেশদ্রোহীর অগ্নিদগ্ধ মুখ (২০১৫) কৃষ্ণপক্ষে যে দেয় উষ্ণ চুম্বন (২০১৬), জ্বালাই মশাল মানবমনে (২০১৮)।
শিশুতোষ : দোলনা দোলার কাব্য (২০২১)

আকিব শিকদার। জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানাধীন তারাপাশা গ্রামে, ০২ ডিসেম্বর ১৯৮৯ সালে। প্রফেসর আলহাজ মোঃ ইয়াকুব আলী শিকদার ও মোছাঃ নূরুন্নাহার বেগম এর জ্যেষ্ঠ সন্তান। স্নাতক পড়েছেন শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটি থেকে ফ্যাশন ডিজাইন বিষয়ে। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর। খন্ডকালীন শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু; বর্তমানে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন এ্যাপারেল ইন্সটিটিউট অব ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজিতে।

কবির বিধ্বস্ত কঙ্কাল (২০১৪), দেশদ্রোহীর অগ্নিদগ্ধ মুখ (২০১৫), কৃষ্ণপক্ষে যে দেয় উষ্ণ চুম্বন (২০১৬), জ্বালাই মশাল মানবমনে (২০১৮) তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। দোলনা দোলার কাব্য (২০২১) তার শিশুতোষ কবিতার বই।
সাহিত্য চর্চায় উৎসাহ স্বরুপ পেয়েছেন “হো.সা.স. উদ্দীপনা সাহিত্য পদক”, “সমধারা সাহিত্য সম্মাননা”, “মেঠোপথ উদ্দীপনা পদক”, “পাপড়ি-করামত আলী সেরা লেখক সম্মাননা”। লেখালেখির পাশাপাশি সঙ্গীত ও চিত্রাংকন তার নেশা।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com