বৃহস্পতিবার ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

একান্ত সাক্ষাতে বলায়েরচরের ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী

তপু সরকার হারুন,শেরপুর প্রতিনিধি :  |  আপডেট ৬:১৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  | 523

একান্ত সাক্ষাতে বলায়েরচরের ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী

প্রশ্নঃ ইয়াকুব আলী চেয়ারম্যান, ১১ বলায়চর ইউনিয়ন । গত ৫ বছরে কি কি দায়িত্ব পালন করেছেন ?
চেয়ারম্যানঃ প্রথমত আমি শ্রদ্ধা জানাই এ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ফসল । এটি দলমতনির্বিশেষে প্রত্যেকের কাছে অহংকারের বিষয়। শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাচ্ছি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার আত্বত্যাগের জন্য আমরা পেয়েছি বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীনরাষ্ট্র ।

আমার বলায়ের চর ইউনিয়নের পূর্বে কামারিয়া ইউনিয়ন, উত্তরে লছমনপুর ইউনিয়ন, দক্ষিণে ঘুঘুরাকন্দি বেতমারী ইউনিয়ন, পশ্চিমে চরপক্ষিমারী ইউনিয়ন অবস্থিত। এ ইউনিয়নটি ১৭ বর্গ কিমিঃ আয়তনে প্রায় ৩৩০০০ হাজার লোকের বসবাস এবং ১৬ হাজারের উপরে ভোটারের সংখ্যা ।


৯টি ওর্য়াডের মধ্য বলাইর চর ,চকসাহাব্দী ,চরজংগলদী,চরশ্রীপুর,ধোবারচর,দোছরা ছনকান্দা, জংগলদী,কুমড়ার চর,রামের চরও,জংগলদী দক্ষিণ পাড়া । এই ইউনিয়নে ৯টি ওর্য়াডের বেশীরভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে এবং কৃষির উপরনির্ভশীল । ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকায় বন্যা এবং বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত থাকে । বার বার বন্যা এবং বৃষ্টির পানিতে নিচু এলাকায় কোন চাষাবাদ হয় না । বছরে একটি সময় শাকসবজি হয় । এখানে নিন্ম আয়ের মানুষ গুলি খুবই অসহায় অবস্থায় থাকে । এরা ঢাকায় বা দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবন জিবিকার টানে দিন মজুরের কাজ করে থাকে ।

একটি ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু হলেন চেয়ারম্যান। এক কথায় , ইউনিয়ন এর উন্নয়নে রাজস্ব,প্রশাসন সহ ইউনিয়নের সব ধরণের কাজ তদারক করার দায়িত্ব । একজন চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের কাজ পরিচালনার জন্য সচিব,গ্রাম পুলিশ এবং অন্যান্য কর্মচারীদের নিয়ে অফিস পরিচালনা করা,ছুটি ও বেতন দেওয়া এবং তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে কখনো বাধা বিপওি ঘটেনি । বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সদস্যদের মতামত নেওয়ার পর চেয়ারম্যান হিসেবে সমাধানের উপায় পালনে সক্ষম হয়েছি ।

গ্রাম পুলিশ নিয়োগের জন্য প্রার্থীতালিকা (সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকদের মধ্য থেকে) তৈরি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর দায়িত্ব পালন করেছি বিভিন্ন সময়ে ঘোষিত সরকারী আইন ওসার্কুলার অনুযায়ী অর্পিত অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্বও যথাযথ ভাবে পালন করেছি।

এলাকার অপরাধ দমন, শান্তি শৃঙ্খলারক্ষা এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধ করার জন্য জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক হযোগিতা পেয়েছি। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী বা সংক্রামক রোগ এবং ফসলে পোকার আক্রমণদেখা দিলে উর্দ্ধতনকর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে উনারও তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহন করে সহযোগিতার হাত বাড়িছেন ।

প্রশ্নঃ আপনার পরিষদের আয়ের উৎসো কিঃ

চেয়ারম্যানঃ

ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের নিজস্ব উৎসের মধ্যে আছে কর, রেট এবং ফি। এর বাইরে পরিষদ কে প্রতি বছর সরকার থেকে অনুদানপায়। তা পরিষদের সদস্য এবং এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সাথেপরামর্শ করে কর, রেট ও ফি ইত্যাদি ধার্য করা।

রাজস্ব আদায়ের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে আদায়কারী নিয়োগ ও তার কাজের দেখাশুনা করেছি। পরিষদের বিশেষ সভায় উন্মুক্ত বাজেট পেশ করা। সদস্যদের মতামত নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে বাজেট অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট পাঠিয়ে দেয়া । জন্ম-মৃত্যু এবং মৃতব্যক্তির পোষ্য সংক্রান্ত উত্তরাধিকার, জাতীয়তা ও চারিত্রিক সনদ পত্রপ্রদান । ইউনিয়নে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কাজসম্পর্কে পরিষদে আলোচনা এবং প্রয়োজন বোধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকটসুপারিশ/ প্রতিবেদন প্রেরণ করে উৎসাহ ও সযোগিতা পেয়েছি।  রিলিফ সামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসার জন্য রোগীদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান, বন্যা ওমহামারীনিয়ন্ত্রণ,নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহনে রাজনৈতিক সংগঠন ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়েছি।

প্রশ্নঃ আপনার গুরুত্বপূন্র্ কাজ কি ছিল ?

চেয়ারম্যানঃ

রাস্তার পাশে বাতি জ্বালানো, গাছলাগানো,এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, পুকুর ও খালবিলের কচুরিপানাপরিস্কার এবং সরকারী জমি ও সম্পত্তি রক্ষা করার ব্যবস্থা করন। মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা ।

গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা নিস্পত্তি করন। ছোটখাট ঝগড়া-বিবাদ, দাংঙ্গ-হাংঙ্গামা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে সালিশেরমাধ্যমে নিস্পত্তি করেছি।

প্রশ্নঃ একজন চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি গত ৫ বছরে আপনার এলাকার উন্নয়ন ও সরকারের সফলতা কি ?

চেয়ারম্যান :

আমাদের শেরপুরে উন্নয়নের রুপকার সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এমপি সাহেবের সহায়তায় আমার এলাকায় করোনা কালীন মহামারীর সময় ৯টি ওর্য়াডে সাধারন গরীব অসহায় মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ কেজি চাল পায়ছি যা এখনো চলোমান । সরকারের বিভিন্ন দান অনুদান পেয়েছি সেটি সঠিক বন্ঠন হয়েছে । এলাকায় প্রায় রাস্তাঘাট পাকা হয়েছে পুল কালবাট্র্ ,খাল খনন, পুষ্টিভাতা, গর্বোবতী “মা”দের ভাতা ,বয়স্কভাতা,বিধবাভাতা,পঙ্গুভাতা পেয়ে সঠিক বন্টন হয়েছে ।

এলাকায় ৪০দিনের কর্মসুচি বাস্তবায়ন বিভিন্ন অসহায় ও গরীব মানুষের বাড়ীতে টিউওয়েল, গভীর , অগভীর নলকুপ স্থাপন, করোন কালীন ঈদ উপহার এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন সময়ে দাঙ্গা হাঙ্গামায় যখন যে সময় সহোযোগিতার চেয়েছি দ্রত সহায়তা পেয়েছি ।

একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের অধিবাসী হিসাবে আমাদের পথচলার বয়স হয়েছে পুরো ৫০ বছর। তাই ২০২১ সাল আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। কারণ, বছরটি এখন বিজয় ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী হিসাবে আমরা সম্মান, শ্রদ্ধা আর গর্বের সঙ্গে পালন করছি। আমাদের সবারই জানা, এ স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ফসল।

১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া শিশুর বয়সও এখন ৫০ বছর। পরিণত বয়সের একজন মানুষ তিনি। হয়তো বা তৃতীয় প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় মুখর তার ঘরবাড়ি। এমন একটি ছবি চোখে ভেসে বেড়ালে কার না ভালো লাগে! স্বাধীনতার সমান বয়সি একজন মানুষের বেলায় এ রকমই তো হওয়ার কথা।

প্রশ্নঃ আপনি চেয়ারম্যান হওয়ার আগে কি করতেন ?

চেয়ারম্যান : আমি ইয়াকুব আলীঃ আমার বাবা মৃত বছির উদ্দিন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন । আমি বাবার ৪ নাম্বার ছেলে গত ২০০৬ সালে খাগড়াছড়ি ৫ বেঙ্গল ক্যান্টনমেন্ট থেকে অবসরে আসি ।অবসর থেকে আমার এলাকায় ঐ চকসাহাব্দী বাজারে গ্রামীন মোবাইলে দোকান দিয়ে ৫/৬ এলাকার মানুষের সেবা করেছি ।

এ সেবাই জনগন আমাকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলে আমাকে ভোট দিয়ে তাদের সেবক হিসেবে গড়ে তুলেছেন । আমি দলমত নির্বিশেষে আমি নির্বাচিত হয়েছি । এলাকার সাধারন মানুষের ভোটে এবং ৫টি বছরে এলাকার প্রতিটি মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে তাদের সেবা করার চেষ্টা করেছি । তাদের দেয়া দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালন করেছি ।

এলাকার প্রতিটি মানুষ বলে আমি ইয়াকুব মিলিটারী এবং আদর করে ভালবেসে বলে একজন ইয়াকুব পাগলা চেয়ারম্যান । আমি তাতেও খুশিঁ ,আমি তাদের সন্তান,কারো ভাই, কারো মামা, কারো চাচা । আমি ৫ বছরে আমার এলাকার জনগনের দোয়া এবং শেরপুরের ৫ বারের নির্বাচিত এম পি সংসদের বীরমুক্তিযোদ্ধা হুইপ আতিউর রহমান আতিক ভাইয়ের সহায়তায় এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন করেছি। যা বিগত চেয়ারম্যানদের তুলনায় অনেক বেশী ।

আমি শেরপুরের প্রশাসন থেকে শুরু করে সবার কাছে ইয়াকুব মিলিটারী থেকে চেয়ারম্যান ।আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ ,এলাকার বাকী আরো কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে..যেটুকু করার জন্য আবার আপনাদের সহায়তা কামনা করছি ।

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com