নেত্রকোনা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মদিনার জ্ঞানসভা

বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাথি সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িন বিশ্বব্যাপী ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে প্রায়ই নানা রকেমের বৈঠক করতেন। তবে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কিছু বৈঠক বা সভা করতেন। এসব সভায় বিভিন্ন শাস্ত্রীয় জ্ঞান, নানা অবস্থা, বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হতো। জ্ঞান সভায় আলোচনা হতো কুরআন, সুন্নাহ, ফেকাহ-ফতোয়া, যুদ্ধ, সফর-সিয়ার-মাগাজি এবং আরব ইতিহাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হতো মাজলিসুল আদব বা সাহিত্য আসর। তাদের এ সভাগুলো সর্বপ্রকার ফেতনা-ফাসাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। ছিল উন্মুক্ত ও দিলের খোরাক-দাওয়া। প্রতিটি বিষয়ে উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত আলোচনা হতো। নিম্নে ইসলামের প্রাথমিক যুগে মদিনার কতিপয় জ্ঞানসভার পরিচয় তুলে ধরা হলো :

মদিনার জ্ঞানসভা :

সাহাবিদের সভা-বৈঠকগুলো বেশিরভাগ মসজিদে নববিতে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হতো। মদিনার বিভিন্ন গলি ও বস্তিতে হতো। বিশেষ করে ওয়াদিয়ে আকিকের পাড়া-মহল্লায় জ্ঞান ও সাহিত্য সভা একসঙ্গে কোনো কোনো দিন জমে থাকত। অংশ নিতেন সমকালীন জ্ঞানী-গুণী পণ্ডিত, বিতার্কিক, ভাষাবিদ, কবি সাহিত্যিকরা। আগ্রহভরে অংশ নিতেন নানা প্রান্তের জ্ঞানপিপাসু ও সাহিত্যনুরাগীরা। ঐতিহাসিক জুবায়ের বাক্কার লিখিত-‘নাওয়াদিরুল মাদিনিয়িন, কিতাবুল আকিক ও আখাবারিহা’, আবু আলি হারুন ইবনু জাকারিয়া লিখিত-‘কিতাবুল আকিক, কিতাবুন নাওয়াদির ও আত-তালিকাত’ আবুল ফরজ ইসপহানি লিখিত-‘কিতাবুল আগানি’, আবু আলি কারি লিখিত-‘কিতাবুল আমানি’ ইত্যাদি গ্রন্থে মদিনার জ্ঞান সভা ও সাহিত্য আসরের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও জ্ঞান-সাহিত্যের তিক্ষè বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। (কাজি আতহার মোবারকপুরি, খাইরুল করুন কি দরসগাহ : ৩৬৩-৬৫) ‘,

মজলিসুল কিলাদাহ :

সাহাবা, তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িন যুগে অসাধারণ কিছু জ্ঞানসভা ও সাহিত্য আসরের খবর পাওয়া যায় তম্মধ্যে একটি হলো ‘মজলিসুল কিলাদাহ’। এ মজলিসটি মসজিদে নববির ‘উস্তোয়ানায়ে উফুদ’ তথা রাসূল (সা.)-এর শয়নকক্ষের পার্শ্ববর্তী খুঁটিতে প্রতিরাত এশার নামাজ পর জমে উঠত। রাসূল (সা.)-এর দরবারে আরবের বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধি দল এলে রাসূল (সা.)-এর কামরার পার্শ্ববর্তী খুঁটির পাশে তাদের নিয়ে বসতেন বিধায় এটাকে ‘উস্তোয়ানায়ে উফুদ’ বলা হয়। এ সতুনের নিকটবর্তী দ্বিতীয় আরেকটি খুঁটির কাছে ‘মাজলিসুল কিলাদাহ’ অনুষ্ঠিত হতো। মদিনার সব ঐতিহাসিকরা এ মজলিসের শানমান বর্ণনা করেছেন। প্রাচীন ইতিহাসবিদ মুহাম্মাদ ইবনু জাবালাহ মাখজুমি মাদিনি (মৃত-১৯৯ হি.) তার ‘তারিখুল মদিনা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-মজলিসে কিলাদায় সমকালীন সব নামিদামি জ্ঞানী-গুণী অংশগ্রহণ করতেন। আল্লামা সামুদি লিখিত-‘ওফাউল ওফা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এটি মজলিসে কিলাদাহ নামে প্রসিদ্ধ। এখানে সাহাবি যুগের উলামা-ফুজালা এবং নানা জ্ঞানী-গুণী অংশগ্রহণ করতেন। (ওফা আল-ওফা, ১ম খণ্ড : ৪৪৯; খাইরুল করুন কি দরসগাহ : ৩৬৫),

মজলিসে উলামায়ে মাগাজি :

তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়ি যুগে মদিনার বিজ্ঞ ওলামা-ফুকাহাদের জ্ঞান সভা ছাড়াও সিয়র-মাগাজি, যুদ্ধকালীন নানা কাহিনিবিষয়ক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হতো। যে সভায় মাগাজি-সারায়া তথা যুদ্ধ-জিহাদ বিশেষজ্ঞরা ও যুদ্ধের বিবরণ লেখকরা অংশ নিতেন। এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ লেখক আবু মাশর নজিহ ইবনু আব্দুর রহমান সিন্দি (মৃত : ১৭০ হিজরি) এসব সভায় নিয়মিত উপস্থিত হয়ে তাবেয়িন ওলামাদের কাছ থেকে যুদ্ধ বর্ণনাগুলো মুখস্থ করে নেন এবং পরে ইমামুল মাগাজি খেতাবপ্রাপ্ত হন। এ সময় মদিনায় ইলমুল মাগাজির গভীর জ্ঞানী এবং যুদ্ধ-জিহাদবিষয়ক লেখকদের বড় একটি দল ছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন-উরওয়াহ ইবনু জুবায়ের (মৃত : ৯৪ হিজরি), আবান ইবনু উসমান ইবনু আফ্ফান (মৃত : ১০৫ হিজরি), আসিম ইবনু আমর ইবনু কাতাদাহ (মৃত : ১২০ হিজরি), শুরাহবিল ইবনু সাআদ (মৃত : ১২৩ হিজরি), মুহাম্মাদ ইবনু শিহাব জুহরি (মৃত : ১২৩ হিজরি), আবদুল্লাহ ইবনু আবু বকর ইবনু হাজম (মৃত : ১৩৫ হিজরি), ওলিদ ইবনু কাসির (মৃত : ১৫১ হিজরি), মুসা ইবনু উকবাহ (মৃত : ১৪১ হিজরি), আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (মৃত : ১৭০ হিজরি), মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (মৃত : ১৫১ হিজরি)। তারা পৃথক পৃথক মজলিসে মাগাজি করে পরস্পর আলোচনা-পর্যালোচনা করতেন এতে উপস্থিত শ্রোতারা উপকৃত হতেন। (তারিখে বাগদাদ, ১৩তম খণ্ড : ৪২৮; কিতাবুল মানাসিক, হরবি : ৩৬৬)।,

সমকালীন সংলাপ :

হজরত জায়নুল আবেদিন ইবনু আলি ইবনু হুসাইন, হজরত উরওয়াহ ইবনু জুবায়ের ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আলি (রা.)-এর মজলিস এশার নামাজের পর মসজিদে নববিতে অনুষ্ঠিত হতো। সমকালীন নানা বিষয়ে সংলাপ হতো। বিশেষ করে উমাইয়া খলিফা-উমারাদের রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতো। যেমনটা সাহাবি হাসান (রা.) পুত্রের বর্ণনায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন-আলি ইবনু হুসাইন ও উরওয়াহ ইবনু জুবায়ের প্রতি রাত এশার নামাজের পর শেষ পর্যায়ে মসজিদে নববিতে বসতেন, আমিও তাদের সঙ্গে বসতাম। অতঃপর সমকালীন প্রেক্ষাপট, রাজনীতি, শাসনকার্য বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতো। (তাবাকাতে ইবনু সাআদ, ৫ম খণ্ড : ১৮১; তারিখে বাগদাদ, ১৩তম খণ্ড : ৪২৮),’

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মদিনার জ্ঞানসভা

আপডেট : ০৩:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাথি সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িন বিশ্বব্যাপী ইসলামি শিক্ষা বিস্তারে প্রায়ই নানা রকেমের বৈঠক করতেন। তবে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কিছু বৈঠক বা সভা করতেন। এসব সভায় বিভিন্ন শাস্ত্রীয় জ্ঞান, নানা অবস্থা, বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হতো। জ্ঞান সভায় আলোচনা হতো কুরআন, সুন্নাহ, ফেকাহ-ফতোয়া, যুদ্ধ, সফর-সিয়ার-মাগাজি এবং আরব ইতিহাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হতো মাজলিসুল আদব বা সাহিত্য আসর। তাদের এ সভাগুলো সর্বপ্রকার ফেতনা-ফাসাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। ছিল উন্মুক্ত ও দিলের খোরাক-দাওয়া। প্রতিটি বিষয়ে উন্মুক্ত ও প্রাণবন্ত আলোচনা হতো। নিম্নে ইসলামের প্রাথমিক যুগে মদিনার কতিপয় জ্ঞানসভার পরিচয় তুলে ধরা হলো :

মদিনার জ্ঞানসভা :

সাহাবিদের সভা-বৈঠকগুলো বেশিরভাগ মসজিদে নববিতে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হতো। মদিনার বিভিন্ন গলি ও বস্তিতে হতো। বিশেষ করে ওয়াদিয়ে আকিকের পাড়া-মহল্লায় জ্ঞান ও সাহিত্য সভা একসঙ্গে কোনো কোনো দিন জমে থাকত। অংশ নিতেন সমকালীন জ্ঞানী-গুণী পণ্ডিত, বিতার্কিক, ভাষাবিদ, কবি সাহিত্যিকরা। আগ্রহভরে অংশ নিতেন নানা প্রান্তের জ্ঞানপিপাসু ও সাহিত্যনুরাগীরা। ঐতিহাসিক জুবায়ের বাক্কার লিখিত-‘নাওয়াদিরুল মাদিনিয়িন, কিতাবুল আকিক ও আখাবারিহা’, আবু আলি হারুন ইবনু জাকারিয়া লিখিত-‘কিতাবুল আকিক, কিতাবুন নাওয়াদির ও আত-তালিকাত’ আবুল ফরজ ইসপহানি লিখিত-‘কিতাবুল আগানি’, আবু আলি কারি লিখিত-‘কিতাবুল আমানি’ ইত্যাদি গ্রন্থে মদিনার জ্ঞান সভা ও সাহিত্য আসরের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও জ্ঞান-সাহিত্যের তিক্ষè বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। (কাজি আতহার মোবারকপুরি, খাইরুল করুন কি দরসগাহ : ৩৬৩-৬৫) ‘,

মজলিসুল কিলাদাহ :

সাহাবা, তাবেয়িন ও তাবে-তাবেয়িন যুগে অসাধারণ কিছু জ্ঞানসভা ও সাহিত্য আসরের খবর পাওয়া যায় তম্মধ্যে একটি হলো ‘মজলিসুল কিলাদাহ’। এ মজলিসটি মসজিদে নববির ‘উস্তোয়ানায়ে উফুদ’ তথা রাসূল (সা.)-এর শয়নকক্ষের পার্শ্ববর্তী খুঁটিতে প্রতিরাত এশার নামাজ পর জমে উঠত। রাসূল (সা.)-এর দরবারে আরবের বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধি দল এলে রাসূল (সা.)-এর কামরার পার্শ্ববর্তী খুঁটির পাশে তাদের নিয়ে বসতেন বিধায় এটাকে ‘উস্তোয়ানায়ে উফুদ’ বলা হয়। এ সতুনের নিকটবর্তী দ্বিতীয় আরেকটি খুঁটির কাছে ‘মাজলিসুল কিলাদাহ’ অনুষ্ঠিত হতো। মদিনার সব ঐতিহাসিকরা এ মজলিসের শানমান বর্ণনা করেছেন। প্রাচীন ইতিহাসবিদ মুহাম্মাদ ইবনু জাবালাহ মাখজুমি মাদিনি (মৃত-১৯৯ হি.) তার ‘তারিখুল মদিনা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন-মজলিসে কিলাদায় সমকালীন সব নামিদামি জ্ঞানী-গুণী অংশগ্রহণ করতেন। আল্লামা সামুদি লিখিত-‘ওফাউল ওফা’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এটি মজলিসে কিলাদাহ নামে প্রসিদ্ধ। এখানে সাহাবি যুগের উলামা-ফুজালা এবং নানা জ্ঞানী-গুণী অংশগ্রহণ করতেন। (ওফা আল-ওফা, ১ম খণ্ড : ৪৪৯; খাইরুল করুন কি দরসগাহ : ৩৬৫),

মজলিসে উলামায়ে মাগাজি :

তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়ি যুগে মদিনার বিজ্ঞ ওলামা-ফুকাহাদের জ্ঞান সভা ছাড়াও সিয়র-মাগাজি, যুদ্ধকালীন নানা কাহিনিবিষয়ক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হতো। যে সভায় মাগাজি-সারায়া তথা যুদ্ধ-জিহাদ বিশেষজ্ঞরা ও যুদ্ধের বিবরণ লেখকরা অংশ নিতেন। এ বিষয়ের প্রসিদ্ধ লেখক আবু মাশর নজিহ ইবনু আব্দুর রহমান সিন্দি (মৃত : ১৭০ হিজরি) এসব সভায় নিয়মিত উপস্থিত হয়ে তাবেয়িন ওলামাদের কাছ থেকে যুদ্ধ বর্ণনাগুলো মুখস্থ করে নেন এবং পরে ইমামুল মাগাজি খেতাবপ্রাপ্ত হন। এ সময় মদিনায় ইলমুল মাগাজির গভীর জ্ঞানী এবং যুদ্ধ-জিহাদবিষয়ক লেখকদের বড় একটি দল ছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন-উরওয়াহ ইবনু জুবায়ের (মৃত : ৯৪ হিজরি), আবান ইবনু উসমান ইবনু আফ্ফান (মৃত : ১০৫ হিজরি), আসিম ইবনু আমর ইবনু কাতাদাহ (মৃত : ১২০ হিজরি), শুরাহবিল ইবনু সাআদ (মৃত : ১২৩ হিজরি), মুহাম্মাদ ইবনু শিহাব জুহরি (মৃত : ১২৩ হিজরি), আবদুল্লাহ ইবনু আবু বকর ইবনু হাজম (মৃত : ১৩৫ হিজরি), ওলিদ ইবনু কাসির (মৃত : ১৫১ হিজরি), মুসা ইবনু উকবাহ (মৃত : ১৪১ হিজরি), আবদুল্লাহ ইবনু জাফর (মৃত : ১৭০ হিজরি), মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক (মৃত : ১৫১ হিজরি)। তারা পৃথক পৃথক মজলিসে মাগাজি করে পরস্পর আলোচনা-পর্যালোচনা করতেন এতে উপস্থিত শ্রোতারা উপকৃত হতেন। (তারিখে বাগদাদ, ১৩তম খণ্ড : ৪২৮; কিতাবুল মানাসিক, হরবি : ৩৬৬)।,

সমকালীন সংলাপ :

হজরত জায়নুল আবেদিন ইবনু আলি ইবনু হুসাইন, হজরত উরওয়াহ ইবনু জুবায়ের ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আলি (রা.)-এর মজলিস এশার নামাজের পর মসজিদে নববিতে অনুষ্ঠিত হতো। সমকালীন নানা বিষয়ে সংলাপ হতো। বিশেষ করে উমাইয়া খলিফা-উমারাদের রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতো। যেমনটা সাহাবি হাসান (রা.) পুত্রের বর্ণনায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন-আলি ইবনু হুসাইন ও উরওয়াহ ইবনু জুবায়ের প্রতি রাত এশার নামাজের পর শেষ পর্যায়ে মসজিদে নববিতে বসতেন, আমিও তাদের সঙ্গে বসতাম। অতঃপর সমকালীন প্রেক্ষাপট, রাজনীতি, শাসনকার্য বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতো। (তাবাকাতে ইবনু সাআদ, ৫ম খণ্ড : ১৮১; তারিখে বাগদাদ, ১৩তম খণ্ড : ৪২৮),’

লেখক : শিক্ষক ও গবেষক ।