বুধবার ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আল্লাহ যেন আমাদের করোনা থেকে রক্ষা করেন : মিশা সওদাগর

পূর্বকন্ঠ ডেস্ক:  |  আপডেট ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৪ মে ২০২০ | প্রিন্ট  | 130

আল্লাহ যেন আমাদের করোনা থেকে রক্ষা করেন : মিশা সওদাগর

ঢাকা, ০৪ মে – তারকাদের ধর্ম কর্ম নিয়ে ভক্তদের অনেক কৌতূহল। অনেকেই মনে করেন মিডিয়ায় কাজ করা তারকারা ধর্ম নিয়ে উদাসীন। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। সব তারকাই যার যার ধর্ম পালন করেন।

মুসলিম তারকারাও রোজা রাখেন। রোজা নিয়ে শুটিং করেন, ব্যস্ত থাকেন নানা রকম কাজে। সবার মতো তাদেরও আছে রোজা রাখার অনেক মজার স্মৃতি, যা ফেলে আসা শৈশবে পড়ে আছে সোনালি স্মৃতি হয়ে।


চলচ্চিত্র অভিনেতা ও শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর জানালেন রোজা নিয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো-

প্রতিবেদক : প্রথম রোজা রাখার মধুর স্মৃতি সম্পর্কে জানতে চাই।

মিশা : স্পষ্ট কিছু মনে নেই। সম্ভবত তখন ক্লাশ ফোরে পড়ি। বয়স কত হবে, আনুমানিক ১১ কি ১২। বাড়িতে সবাই রোজা রাখতো। আমার বড় ভাই বোনেরাও। সন্ধ্যায় দেখতাম সবার কত গুরুত্ব। থালার পর থালা খাবার সাজিয়ে দেয়া হতো সবাইকে। আর আমি রোজা রাখতাম না বলে আমার দিকে কেউ মনযোগ দিতো না।

সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, বেশি করে সুস্বাদু খাবারের জন্য রোখা রাখার চেষ্টা করতাম। মজার দিন ছিলো।

প্রতিবেদক : প্রথম ইফতার বা সেহরির কোনো স্মৃতি কি মনে পড়ে?

মিশা : প্রথম ইফতার বা সেহরি মনে নেই। ছোটবেলাটা অনেক স্মৃতির। তখন রোজাগুলো আসতো অনেক আনন্দ নিয়ে। সব স্মৃতিই মজার ও স্পেশাল। আমি পুরান ঢাকার ছেলে। চকবাজার থেকে ইফতার আসতো রকমারি। সেহরির খানাদান আনা হতো। সেসব খাবার অমৃত মনে করে খেতাম। সারাদিন রোজা রেখে অপেক্ষা করতাম কখন ইফতারের সময় হবে।

প্রতিবেদক : রোজার মজার কোনো স্মৃতি…

মিশা : বিশেষভাবে বলতে গেলে বলবো ছোটবেলায় রোজা রাখার সময় যে গুরুত্বটা পেতাম সেটা খুব এনজয় করতাম। মনে হতো আমিও বড় হয়েছি।

একবার আমের সিজনে আড়তে গিয়েছিলাম। ল্যাংড়া আমের ঘ্রাণ চারদিকে। কত সুন্দর সুন্দর আম। খেয়ে ফেললাম। পরে মনে পড়লো আমি তো রোজা। আম্মাকে বললাম লজ্জা নিয়ে। আম্মা বললেন ভুলে খেয়েছো কিছু হবে না।

আর বড়বেলার ইফতারের একটা ইফতারের স্মৃতি খুব মনে পড়ে। পাগল তোর জন্য রে সিনেমার সেটে ছিলাম। আমি, রিয়াজ, শাবনূর আর এটিএম শামসুজ্জামান সাহেব। আযানের সময় পেরিয়ে যাচ্ছিলো। শোনা যাচ্ছিলো না। সময় দেখার সুযোগও ছিলো না। আমি বলছিলাম আযান হয়ে গেছে। খাওয়াও শুরু করেছিলাম। পরে দেখা গেল আমার অনুমান সঠিক ছিলো। সবাই খুব মজা করছিলো তখন আমার টাইম সেন্স নিয়ে।

প্রতিবেদক : বড় বেলার রোজা আর এখনকার রোজায় কী পার্থক্য পান?

মিশা : অনেক অনেক পার্থক্য। আগে রোজা রাখা হতো মজার মজার খাবার বেশি করে খাবার লোভে। বড় হবার চেষ্টায়। আর এখন খাওয়া দাওয়া কোনো বিষয়ই না। আল্লাহকে খুশি করা, ইবাদাত করাই মুখ্য। শৈশবের সবই শিশুসুলভ।

প্রতিবেদক : ইফতার ও সেহরিতে কী ধরনের খাবারকে প্রাধান্য দেন?

মিশা : ২৫ বছর ধরে তো বেশিরভাগ সময় শুটিং সেটেই ইফতার করা হয়। সেখানে যা থাকে তাই খাই। এমনিতে পুরান ঢাকার লোক আমি। ইফতারে ঐতিহ্যবাহী খাবার থাকে। তবে সেহরিতে একটু খেজুর, এক গ্লাস দুধ হলেই হয়ে যায়।

প্রতিবেদক: করোনাকালের এই ঘরবন্দী সময়ে রোজা নিয়ে অভিজ্ঞতা কেমন?

মিশা : এটা আমাদের সবার জন্যই একটা নতুন অভিজ্ঞতা। বেদনারও। ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। রোজায় ইফতারের জন্য এদেশে উৎসব হয়। কিন্ত এবারে চিত্রটা অন্যরকম।

অনেকের কাজ নেই, আয় নেই। তাদের সময়গুলো খুব কঠিন যাচ্ছে। যে যার মতো করে অসহায় মানুষদের পাশে থাকতে হবে। আল্লাহ যে পরীক্ষায় আমাদের ফেলেছেন তাতে পাশ করতে হবে।

প্রতিবেদক : শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে বেশ কিছু কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে অসহায় শিল্পীদের জন্য। পরিকল্পনাগুলো জানতে চাই।

মিশা : সমিতির সভাপতি হিসেবেই না একজন সচ্ছল শিল্পী হিসেবে আমি সবসময়ই অসহায় ভাইবোনদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। করোনা ও রোজার উপলক্ষে সমিতি থেকে অনেক শিল্পীদের খাবার দাবার দেয়া হয়েছে। সামনে আরও দেয়া হবে।

প্রতিবেদক : এবারের রোজায় বিশেষ কী প্রার্থনা করছেন?

মিশা : রোজা হলো মুসলমানের জন্য বিরাট সুযোগ। আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত পাওয়ার মাস এইটা। হাদীস আছে এই রোজা শেষে একজন বান্দাকে আল্লাহ শিশুর মতো নিষ্পাপ হওয়ার সুযোগ দেন। প্রথমত আমি সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।

তারপর অবশ্যই এবার করোনার হাত থেকে যেন আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন সেই দোয়া করবো। এটা এবারের রোজায় সবাই প্রার্থনা করবেন। আমরা চাই আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করে দেবেন। আবার পৃথিবী স্বাভাবিক হবে। আমিও সবার কাছে আমার জন্য, আমার পরিবারের জন্য দোয়া চাই।

এন এইচ, ০৪ মে

Source link

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com