নেত্রকোনা ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

অর্থাভাবে হারিয়ে যাচ্ছে দুর্গাপুরের আদিবাসী তাঁত শিল্প

নজরকাড়া ডিজাইন আর মন মাতানো রঙ্গে তাঁতে কাপড় বুনে চলছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার আদিবাসী এলাকা বিরিশিরির গাড়ো মহিলারা। তৈরীকৃত আদিবাসী পোষাক স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি পর্যটকরাও কিনে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা অন্যান্য পেশার পাশাপাশি তাঁত শিল্পের কাজে সাচ্ছন্নবোধ করলেও কালের বিবর্তনে বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে তাঁদের প্রিয় তাঁত শিল্প।

এ বিষয়ে বৃহ:স্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, জেলার বিরিশিরি এলাকার একমাত্র তাঁত শিল্পের অবস্থা আগের মতো আর চলছে না। রুগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে মেশিন গুলো। আদিবাসী মহিলা সদস্যগন তাঁদের ঐতিহ্যগত পোষাক ‘‘দকমান্দা’’ তৈরি করতে আশা হারিয়ে ফেলছেন। ওই এলাকার কমবেশি সবাই আদিবাসী তাঁতের সঙ্গে পরিচিত। তাঁতকে পুরোপুরি শিল্পে রূপান্তর করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। নতুন তাঁত মেশিন না থাকায় এখনো পুরাতন মেশিনে কাপড় বোনার কারনে গুনগত মান ও সঠিক সময়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে আদিবাসী তাঁত শ্রমিক শেফা ¤্রং বলেন, ২০১৮ সনে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় আমাদের হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনরায় ফিরে আসলেও বর্তমানে টাকার অভাবে এ শিল্প বিলুপ্তির পথে। নতুন মেশিন না থাকায় কাপড় তৈরীতে বেশি খরচ পড়ায় বাইরে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়। আমাদের এ শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনা সুদে ঋণ প্রদান করলে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাহিরেও এ পোষাক সরবরাহ করতে পারবো।

আদিবাসী নারী সংগঠন ওয়াইডবিøউসি‘র সাধারণ সম্পাদিকা লুদিয়া রুমা সাংমা বলেন, এক সময় আদিবাসীরা তাঁত শিল্প দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও বর্তমানে টাকার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিবাহী তাঁত শিল্প। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখনো এ শিল্পটিকে বৃহৎ শিল্পে রূপান্তর করা যাবে। এখানে প্রায় ৪০টি মেশিন রয়েছে, সুতা কাটার মেশিন সহ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্র ক্রয় করতে পারলে, কম খরচেই তৈরী করা যেতো আদিবাসী পোষাক সহ অন্যান্য পোষক। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী করা যেতো।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম বলেন, ২০১৮ সনে এ তাঁত শিল্পকে রক্ষার জন্য মননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেশ কিছু টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি তাঁতের তৈরি কাপড়কে আকর্ষণীয় করতে কাপড় গুলোতে বুটিক ও পুতির কাজ করার তাঁত শ্রমিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্বল্প সুদে সরকারী ঋণ দেয়া হলে এ শিল্পটি ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হতো। এ অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

প্রকাশক ও সম্পাদক সম্পর্কে-

শফিকুল আলম শাহীন

আমি একজন ওয়েব ডেভেলপার ও সাংবাদিক। আমি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় পূর্বধলা উপজেলা সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত । সেইসাথে পূর্বকণ্ঠ অনলাইন প্রকাশনার সম্পাদক ও প্রকাশক। আমার বর্তমান ঠিকানা স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। আমি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক। আমার ধর্ম ইসলাম। আমি করতে, দেখতে এবং অভিজ্ঞতা করতে পছন্দ করি এমন অনেক কিছু আছে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করি। যেমন ওয়েব পেজ তৈরি করা, বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করা, রেডিও স্টেশন তৈরি করা, অনলাইন সংবাদপত্র তৈরি করা ইত্যাদি। আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পূর্বকন্ঠ পত্রিকাটি স্বাধীনতার চেতনায় একটি নিরপেক্ষ জাতীয় অনলাইন । পাঠক আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা। পূর্বকণ্ঠ কথা বলে বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী আহ্বান ও ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার। কথা বলে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে। ছড়িয়ে দিতে এ চেতনা দেশের প্রত্যেক কোণে কোণে। আমরা রাষ্ট্রের আইন কানুন, রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রীয় আইন বিরোধী এবং বাঙ্গালীর আবহমান কালের সামাজিক সহনশীলতার বিপক্ষে পূর্বকন্ঠ কখনো সংবাদ প্রকাশ করে না। আমরা সকল ধর্মমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কোন ধর্মমত বা তাদের অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে আমরা কিছু প্রকাশ করি না। আমাদের সকল প্রচেষ্টা পাঠকের সংবাদ চাহিদাকে কেন্দ্র করে। তাই পাঠকের যে কোনো মতামত আমরা সাদরে গ্রহন করব। প্রয়োজনে: ০১৭১৩৫৭৩৫০২

অর্থাভাবে হারিয়ে যাচ্ছে দুর্গাপুরের আদিবাসী তাঁত শিল্প

আপডেট : ০৬:৪১:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২০

নজরকাড়া ডিজাইন আর মন মাতানো রঙ্গে তাঁতে কাপড় বুনে চলছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার আদিবাসী এলাকা বিরিশিরির গাড়ো মহিলারা। তৈরীকৃত আদিবাসী পোষাক স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি পর্যটকরাও কিনে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। স্থানীয় আদিবাসী মহিলারা অন্যান্য পেশার পাশাপাশি তাঁত শিল্পের কাজে সাচ্ছন্নবোধ করলেও কালের বিবর্তনে বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে তাঁদের প্রিয় তাঁত শিল্প।

এ বিষয়ে বৃহ:স্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, জেলার বিরিশিরি এলাকার একমাত্র তাঁত শিল্পের অবস্থা আগের মতো আর চলছে না। রুগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে মেশিন গুলো। আদিবাসী মহিলা সদস্যগন তাঁদের ঐতিহ্যগত পোষাক ‘‘দকমান্দা’’ তৈরি করতে আশা হারিয়ে ফেলছেন। ওই এলাকার কমবেশি সবাই আদিবাসী তাঁতের সঙ্গে পরিচিত। তাঁতকে পুরোপুরি শিল্পে রূপান্তর করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। নতুন তাঁত মেশিন না থাকায় এখনো পুরাতন মেশিনে কাপড় বোনার কারনে গুনগত মান ও সঠিক সময়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ নিয়ে আদিবাসী তাঁত শ্রমিক শেফা ¤্রং বলেন, ২০১৮ সনে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় আমাদের হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনরায় ফিরে আসলেও বর্তমানে টাকার অভাবে এ শিল্প বিলুপ্তির পথে। নতুন মেশিন না থাকায় কাপড় তৈরীতে বেশি খরচ পড়ায় বাইরে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়। আমাদের এ শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিনা সুদে ঋণ প্রদান করলে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাহিরেও এ পোষাক সরবরাহ করতে পারবো।

আদিবাসী নারী সংগঠন ওয়াইডবিøউসি‘র সাধারণ সম্পাদিকা লুদিয়া রুমা সাংমা বলেন, এক সময় আদিবাসীরা তাঁত শিল্প দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও বর্তমানে টাকার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিবাহী তাঁত শিল্প। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখনো এ শিল্পটিকে বৃহৎ শিল্পে রূপান্তর করা যাবে। এখানে প্রায় ৪০টি মেশিন রয়েছে, সুতা কাটার মেশিন সহ অন্যান্য আধুনিক যন্ত্র ক্রয় করতে পারলে, কম খরচেই তৈরী করা যেতো আদিবাসী পোষাক সহ অন্যান্য পোষক। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী করা যেতো।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা খানম বলেন, ২০১৮ সনে এ তাঁত শিল্পকে রক্ষার জন্য মননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বেশ কিছু টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি তাঁতের তৈরি কাপড়কে আকর্ষণীয় করতে কাপড় গুলোতে বুটিক ও পুতির কাজ করার তাঁত শ্রমিকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্বল্প সুদে সরকারী ঋণ দেয়া হলে এ শিল্পটি ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হতো। এ অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।