সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

অনুভবে জামালপুর

অধ্যাপক মালেকা আক্তার চৌধুরী :  |  আপডেট ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০ | প্রিন্ট  | 182

অনুভবে জামালপুর

আজ শ্রাবণের সন্ধ্যায় জামালপুরের বাড়িতে অঝোর ধারায় ঝরে পড়া টিনের চালে বৃষ্টির কাব্যিক শব্দে মনটা কেবলই উদাস হয়ে যাচ্ছে। খেয়ালী বর্ষা এসেছে ভাঙা-গড়ার অনিবার্য শিল্পী হয়ে। মানব মনে প্রশান্তির অবিরল ধারায় স্মৃতির সীমানায় অবগাহনের অঙ্গীকারে ঋদ্ধ সময়ের আবেদন ছুঁয়ে।  মনে পড়ছে ফেলে আসা দুর্দান্ত সেসব সোনালি দিনের গল্প।

সহজাতভাবেই মানুষ বিস্মৃতিপ্রবণ। পুরনো স্মৃতিগুলো চলার পথের নব আয়োজনের ধুলোবালির আস্তরণ পড়ে ম্লান হয় বলেই চঞ্চল মন সামনে বাড়তে শিখে। এগিয়ে চলার সাহস পায়। তবুও কিছু স্মৃতি, কিছু অনুভূতি কখনোই পুরনো হয় না। আপন মহিমায় দ্যুতি ছড়ায়, ভাবায়, হাসায় এবং কাঁদায় ।


আজন্ম লালিত যে শহরের সবুজ শ্যামলিমার প্রাণ প্রাচুর্যে আমি জন্মেছি। বেড়ে উঠেছি। স্কুল- কলেজের গণ্ডি পেরিয়েছি। সেটি আমার প্রাণের প্রিয় শহর জামালপুর। অবসরপ্রাপ্ত বাবার ঘরে কলেজের পাঠ শেষ হওয়ার পূর্বেই প্রাক-প্রেমের ঘোর নিয়ে কিশোরী বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসা।

শুরু হয় কিশোরী কন্যার সংসারধর্ম। পড়াশোনা-সন্তান পালনের গুরু দায়িত্ব। অবশেষে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষা ক্যাডারে যোগদান। জীবনটাকে জটিল এক সংসারে থিতু করলেও যাপিত জীবনে সুখ ও দুঃখের ভেলায় ভেসে রঙিন প্রজাপতির মতোই পুরো জামালপুর মাতিয়েছি মনের রঙে রাঙিয়ে। বহতা সময়ের রাশ টেনে আনন্দ উপভোগ করেছি স্বজন-পরিবার-পরিজন, বন্ধু-পরিচিতজনদের সঙ্গে। সে স্বাধীনতা আমার উদারমনা স্বামী হাসমত আলী চৌধুরী যেমন দিয়েছেন, তেমন তিনি নিজেও সেসব উপভোগ করতেন।

জামালপুরে সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজে চাকরির সুবাদে কলেজ আর বাড়ির পার্থক্য তেমন ছিল না। কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে এখানকার সব কিছু ছিল আমার অবাধ বিচরণের জায়গা। এক কথায় বাঁধনহারা আর ছন্নছাড়া আমি। স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছি মনের আনন্দে।

পেশাগত কারণেই স্ট্যাডি লিভ নিয়ে এমফিল ও পিএইচডি করার উদ্দেশ্যে ২০০৭ সালে গেলাম ঢাকা শহরে। মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরু হলো এমফিলের শিক্ষার্থী হিসেবে ‘বেগম ফয়জুন্নেছা’ হলের আবাসিক ছাত্রী হয়ে পথচলা। সন্তানদের পড়াশুশোনার পাশাপাশি নিজেরটাও চলেছে সমানতালে এই জামালপুরে আসা যাওয়ার মাঝেই।

বেড়েছে পেশাগত ব্যস্ততা। সবকিছু মিলে জামালপুরের টানে বেশ খানিকটা ভাটা পড়লেও ঢাকা ছেড়ে যখনই নিজ শহরের দিকে পা বাড়িয়েছি তখন অন্যরকম এক আনন্দে মনটা নেচে উঠেছে। বাসায় চায়ের কাপে আড্ডার ঝড় উঠেছে গভীর রাত পর্যন্ত। রঙিন সে দিনগুলো চাইলেও কি আর ফিরে পাওয়া যাবে!

বৈশ্বিক মহামারির কবলে পড়ে দীর্ঘ লকডাউনের সময়টিতে জামালপুরে আসা হয়ে ওঠেনি। ছোটোবেলা থেকেই শুনে এসেছি জামালপুর এক গলির শহর। যদিও বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টিতে জামালপুর এখন উন্নত জেলা শহরের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। দৃশ্যমান হয়েছে শহরের প্রাণকেন্দ্রে কালচারাল ভিলেজসহ শিল্পকলা একাডেমি।

প্রিয় শহরের পরিচিত কতো দোকান, মার্কেট, সু-উচ্চ ভবন আগ‌্রহভরে দেখছিলাম। জামালপুরের কোল ঘেঁষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের শাখানদী প‌্রবাহিত। রিকশায় যেতে যেতে নদীর পানিতে প্লাবিত তীরবর্তী গ‌্রামের ঘর-বাড়ি ও গাছ-পালা আধডোবা হয়ে থাকার মতো দৃশ্য চোখে পড়লো। সারাদেশেই বাড়ছে বন্যার পানি। প্লাবিত হচ্ছে গ‌্রামের পর গ‌্রাম। জামালপুর সদর, ইসলামপুর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়িতে পানি বেড়েই চলেছে। নদী ভাঙ্গনও থেমে নেই। পানি প‌্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। পানীয় জল এবং খাদ্য সংকটসহ ঔষধ-পথ্যের অভাবে প‌্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ চরমে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ আমলে নিয়ে বিভিন্ন সেবা সেক্টরকে নিয়মিত সেবা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এটা প্রশংসার যোগ্য।

হেঁটে নদী তীরের বাঁধের ওপর দিয়ে ব‌্রিজে চলে গেলাম। কোনো তাড়া ছিলো না ঘরে ফেরার। ব্যস্ততা ছিলো না রান্না করার। সময়টুকু নিজেকেই দিলাম। স্মৃতির আবেগঘন ওড়াউড়ি মনের পর্দাতে দেখতে পারছিলাম মনে হয়। চেনা নগরীর আজ সবই প্রায় অচেনা মনে হয়। তারওপর মাস্কের বাড়তি সুরক্ষা সংযোজনে চেনা-অচেনা সবই সমান।

দূরে গাছ-পালার সারিতে সবুজের সমারোহ। আধ ডোবা খড়ের গাদা আর ডুবন্ত প্রায় বাড়িগুলোকে কোনো শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতো মনে হচ্ছিলো। ব‌্রিজের দু’পাশের রেলিংয়ে শালিক পাখি আর কাক পাখির কাব্যিক বিচরণ প‌্রকৃতির কোলে যেনো অন্যরকম মাত্রা পেয়েছে। মাঝে মধ্যে দু’একটা ইঞ্জিন চালিত নৌকার ভট ভট শব্দেও মেঘলা গোমট আবহাওয়ায় মন্দ লাগছিলো না।

লেখক: দর্শন বিভাগ ও সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক পরিষদ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

ঢাকা/মাহফুজ/মাহি

 

Source link

শেয়ার করুন..

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement
এক ক্লিকে বিভাগের খবর

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
ঘোষনা : আমাদের পূর্বকন্ঠ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য আপনাকে স্বাগতম। আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া খবরা খবর জানাতে আমাদের ফোন করুন-০১৭১৩৫৭৩৫০২ এই নাম্বারে ☎ গুরুত্বপূর্ণ নাম্বার সমূহ : ☎ জরুরী সেবা : ৯৯৯ ☎ নেত্রকোনা ফায়ার স্টেশন: ০১৭৮৯৭৪৪২১২☎ জেলা প্রশাসক ,নেত্রকোনা:০১৩১৮-২৫১৪০১ ☎ পুলিশ সুপার,নেত্রকোনা: ০১৩২০১০৪১০০☎ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল : ০১৩২০১০৪১৪৫ ☎ ইউএনও,পূর্বধলা : ০১৭৯৩৭৬২১০৮☎ ওসি পূর্বধলা : ০১৩২০১০৪৩১৫ ☎ শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র : ০১৩২০১০৪৩৩৩ ☎ ওসি শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে থানা : ০১৩২০১৮২৮২৬ ☎ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, পূর্বধলা: ০১৭০০৭১৭২১২/০৯৫৩২৫৬১০৬ ☎ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮৩৮৭৫৮৭/০১৭০৮৪১৫০২২ ☎ উপজেলা মৎস্য অফিসার, পূর্বধলা : ০১৫১৫-৬১৪৯২১ ☎ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পূর্বধলা : ০১৯৯০-৭০৩০২০ ☎ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৮-৭২৮২৯৪ ☎ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) পূর্বধলা :০১৭০৮-১৬১৪৫৭ ☎ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৯১৪-৯১৯৯৩৮ ☎ উপ-সহকারি প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, পূর্বধলা : ০১৯১৬-৮২৬৬৬৮ ☎ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১১-৭৮৯৭৯৮ ☎ উপজেলা কৃষি অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৬-৭৯৮৯৪৬ ☎ উপজেলা শিক্ষা অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৫-৪৭৪২৯৬ ☎ উপজেলা সমবায় অফিসার, পূর্বধলা : ০১৭১৭-০৪৩৬৩৯ ☎ সম্পাদক পূর্বকন্ঠ ☎ ০১৭১৩৫৭৩৫০২ ☎
মোঃ শফিকুল আলম শাহীন সম্পাদক ও প্রকাশক
পূর্বকণ্ঠ ২০১৬ সালে তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

স্টেশন রোড, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

হেল্প লাইনঃ +৮৮০৯৬৯৬৭৭৩৫০২

E-mail: info@purbakantho.com